নাকবন্ধ সমস্যার কিছু ঘরোয়া নিরাময়

ঠান্ডা লেগে কিংবা ফ্লু বা এলার্জির কারণে নাকবন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা (nasal congestion) নিঃসন্দেহে খুবই বিরক্তিকর হলেও এ সমস্যা প্রায়ই ঘটে অনেকের। যদিও অনেকে ভাবেন অতিরিক্ত মিউকাসই এই সমস্যার কারণ, তবে আসলে ব্যাপারটা সেরকম নাও হতে পারে। অনেক সময় নাকের ভেতরের পর্দা ফুলে সেখানে অতিরিক্ত মিউকাস জমা হয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তবে আশার কথা হলো- এই নাকবন্ধ সমস্যার বেশ কিছু ঘরোয়া নিরাময় বেশ উপকারী এবং কার্যকর।

 

নাকবন্ধের ঘরোয়া চিকিৎসায় সঠিক পরিবেশ একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। যেমন একটি এসি রুম বিভিন্ন এলার্জেন কিংবা বাতাসবাহিত উৎপাত/ জীবাণু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। সুতরাং, রুমের বাতাসটাকে এ সময় পরিশুদ্ধ রাখতে সচেষ্ট হোন। তাছাড়া নাকবন্ধ সমস্যায় ভ্যাপোরাইজারও খুব উপকারি, বিশেষত যখন পানির সাথে ভিনেগার বা ভিকস-স্টাইল মেনথল স্লেভের মত জিনিস যোগ করা হয়। বাচ্চাদের জন্য এক্ষেত্রে গরম পানির বদলে ঠান্ডা জল ব্যবহার করা যেতে পারে। হাতের কাছে ভ্যাপোরাইজার জাতীয় যন্ত্র পাওয়া না গেলে ফুটন্ত পানি ও ভিনেগার বা হার্বের মিশ্রণ নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

 

নাকবন্ধ সমস্যায় ঝাল খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। ঝাল মরিচ দিয়ে চিকেন স্যুপের মত খাবার আপনার নাকের সাইনাস প্যাসেজ উন্মুক্ত করে দিতে পারে। অনেকে ম্যাক্সিকান, চাইনিজ বা ভারতীয় ঝাল বিভিন্ন স্থানীয় খাবার খেয়ে নাকবন্ধ সমস্যায় বেশ আরাম বোধ করেন। পুদিনা/ ধনে পাতার চা (basil tea) কিংবা ঝাল টমেটো চা ইত্যাদির মত পানীয়গুলোও নাকের সাইনাস খুলে দিতে ভালো কার্যকর।

 

নাকবন্ধ সমস্যায় আপনি সেক দেওয়ার মত কিছু ফিজিক্যাল পদ্ধতিও ব্যবহার করতে পারেন। আপনার চোখের নীচে এবং নাকের উপরে গরম এবং আর্দ্র সেক দিন। তাছাড়া একটি বিশেষ ধরণের ব্যায়ামও এ সমস্যায় কার্যকর। ব্যায়ামটি হলো - আপনার জিহবা দিয়ে মুখ-গহ্বরের উপরের তলে ঠেলুন এবং এরপর হাল্কাভাবে আপনার দু'চোখের মাঝের অংশটাতে চাপ দিন। এভাবে ব্যায়ামটি চালিয়ে যান। ধরা হয়- সাইনাস অঞ্চলের একটি বিশেষ হাড় সরানো হলে তা মিউকাস নিঃসরণে সহায়ক হবে।

 

এছাড়াও নাকবন্ধ সমস্যার একটি জনপ্রিয় নিরাময় হলো স্যালাইন স্প্রে। এতি তৈরির একটি প্রচলিত পদ্ধতি হলো- বেকিং সোডা এবং টেবিল সল্ট পানিতে মিশিয়ে তারপর সে মিশ্রণ ফুটানো। এরপর সেটাকে ঠান্ডা করে ভালো একটা বোতলে সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনমাফিক ড্রপারের সাহায্যে সে স্প্রে কয়েক ফোঁটা নাকে প্রয়োগ করা যেতে পারে। ধারণা করা হয়- এই স্প্রে নাকের স্বাভাবিক নিঃসরণে সহায়তা করে। একই রকমভাবে দ্রবণে ৩% হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড এবং কলয়ডাল সিলভারের মিশ্রণ নাকবন্ধ সমস্যায় ভালো কার্যকর।

 

মনে রাখতে হবে- নাকবন্ধ সমস্যার জন্য ঠান্ডা কিংবা অন্যান্য ইনফেকশন যতটা দায়ী, কিছু কিছু খাদ্য উপাদান তার থেকেও বেশি দায়ী। যেমন দুধের বিভিন্ন প্রোডাক্ট কিংবা বাদাম/ গমের প্রোডাক্ট নাকবন্ধ সমস্যাকে দারুণভাবে উসকে দিতে পারে। ঠান্ডা বা ফ্লু বাদে খাবারের বিভিন্ন এলার্জেন যেগুলো কি না নাকবন্ধ সমস্যার জন্য দায়ী, সেসব এলার্জেন বাচ্চার ডায়েট থেকে সরিয়ে ফেলা হলে নাকবন্ধ সমস্যার পৌনঃপুনিকতা এবং তীব্রতা দু'টোই হ্রাস পাবে।     

 

 

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান