ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান
কত মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারই না খরচ হয় ঠান্ডা কিংবা গলাব্যাথার সমস্যা ভালো করতে
গিয়ে; কত রকম ওষুধের পেছনই না আমরা টাকা
ঢালি। যদিও সত্য হলো- এসব ওষুধ কেবল সমস্যাটা সাময়িকভাবে চাপা দিয়ে রাখে। এ কারণেই
বোধহয় ইদানীং মানুষজন ওষুধের বদলে প্রাকৃতিক নানা উপাদানের দিকে ঝুকছে। এমনকি আমি
নিজেও ঠান্ডা আর গলার ঘা সমস্যায় এ প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে উপকার পেয়েছি।
শুধু একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে- এর উপাদানগুলো যেনো হয় অর্গানিক।
ঠান্ডা এবং গলার ঘা সমস্যার আয়ুর্বেদিক সমাধান
এ পদ্ধতিটা ঠান্ডা এবং গলার ঘা দূরীকরণের সাথে সাথে শরীরের রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও অত্যন্ত কার্যকর। সাথে আরো নানা নিরাময়ী গুণাগুণ তো আছেই।
উপকরণঃ
*লেবু থেকে পাওয়া এক টেবিলচামচ
লেবুর জুস
*এক চা চামচ আদার জুস
*এক টেবিলচামচ খাঁটি মধু
*আধা গ্লাস পরিষ্কার পানি
আলাদা আলদাভাবে উপরের প্রতিটি উপাদানই ওষুধি গুণাগুণ সম্পন্ন। সুতরাং আপনি যখন
এগুলোকে একত্রে মেশাবেন, বুঝতেই পারছেন তা কতটা কার্যকর হয়ে
উঠবে।
সতেজ লেবু থেকে পাওয়া লেবুর জুস
লেবুর জুসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। তাছাড়া এর এন্টি-ব্যাক্টিরিয়াল ও
এন্টি-ভাইরাল কর্যকারিতার কারণে এটি ওষুধি কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিষ্কারক ও
স্কিন প্রোডাক্টেও ব্যবহৃত হয়।
সতেজ আদা থেকে পাওয়া আদার জুস
আবহমান কাল থেকে আদা এশিয়ান অঞ্চলে রান্নার সময় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এছাড়া
আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে এর শক্তিশালী ওষুধি গুণাগুণ স্বীকৃত। এর এন্টি-অক্সিডেন্ট, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল ও এন্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাগুণও রয়েছে। এটা আপনার রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে থাকে। এই প্রাকৃতিক ডি-টক্সিফায়ার কখনো কখনো
এমনকি ক্যান্সারের মোকাবিলায়ও ব্যবহৃত হয়। এতে ভিটামিন এ, সি, ই এবং বি-কমপ্লেক্স ছাড়াও বিভিন্ন
খনিজ উপাদান রয়েছে। এমনকি প্রথাগত ডাক্তারেরাও বমি বমি ভাব প্রতিরোধে আদা ব্যবহার
করতে বলে থাকেন।
কুচি কুচি করে কিংবা ব্লেন্ডার ব্যবহার করে আপনি আদা থেকে এর জুস পেতে পারেন।
খাঁটি মধু
খাঁটি মধু সংগ্রহের সময় একটা বিষয় খেয়াল রাখাটা জরুরি যে মধুটি যেনো অপরিশোধিত
(Raw) হয়, কারণ পরিশোধিত বাণিজ্যিক মধুতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই অনুপস্থিত থাকে।
বাণিজ্যিক মধু দেখতে বাদামী ও স্বচ্ছ,
অন্যদিকে অপরিশোধিত
মধু গাঢ়, অনেকটা দুধের মত। খাঁটি অপরিশোধিত
মধু প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন (যেমন ভিটামিন- এ, সি, ডি, ই এবং কে) ও খনিজে পূর্ণ।
উল্লেখিত উপাদানগুলো দিয়ে তৈরি মিশ্রণ আপনি একেবারে অনেকখানি বানিয়ে ফ্রিজে রেখে
দিতে পারেন ! যখনি একটু ঠান্ডা ঠান্ডার অনুভূতি হবে, তখনই দেরি না করে ফ্রিজ থেকে বের করে খেয়ে নিন। আমি সাধারণত এক সপ্তাহ ধরে
অল্প অল্প এটা খাই। আসলে জিনিসটা খেতেও খুব মজার, তাই ওষুধ হিসেবে খেলেও, খেয়ে বেশ স্বাদ পাবেন।
এটা শিশুদের জন্যও খুব কার্যকর এবং নিরাপদ। আমি তো আমার বাচ্চাদের একটু ঠান্ডা
বা কাশি ভাব দেখলেই ওদের এটা খেতে দেই। বাচ্চাদের জন্য মিশ্রণে আরেকটু বেশি মধু
যোগ করে নিতে পারেন চাইলে।
এটা যত বেশি বেশি খাওয়া যায়, ততই মঙ্গল।
আমি মাঝে মাঝে একটু বেশি পানি আর লেবু/মধু যোগ করে একটা আদার লেমোনেডও বানাই
যেটা কি না হজমে সহায়ক।






Comments
Post a Comment