চোখের পাতার শুষ্ক ত্বক সমস্যার মোকাবেলায় করণীয়

 

চোখের পাতার ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া খুবই বাজে একটা সমস্যা। এ সময় সেখানে চুলকানো কিংবা চামড়া ওঠার মত বিরক্তিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এরকম উঠে যাওয়া চামড়া চোখে পড়লে কিরকম অস্বস্তিকর অবস্থার তৈরি হয়, সেটা বলাই বাহুল্য। এম্নিতে ত্বকের এরকম শুষ্কতা মোকাবেলায় কী পদ্ধতি ব্যবহৃত হবে, সেটা নির্ভর করে সমস্যার কারণের উপর। যদি ইনফ্ল্যামেশন (প্রদাহ) কিংবা ইনফেকশন হয় এর কারণ, তবে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রেস্ক্রাইবড ওষুধ প্রয়োজন। অন্য সময়ে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা জেলই ভালো কাজ করে।

পাতার শুষ্ক ত্বক সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণই হলো ব্লেফারিটিস। এটা চোখের চারপাশে ইনফ্ল্যামেশন (প্রদাহ) এবং শুষ্ক ত্বকের পাশাপাশি পাতার ইনফ্ল্যামেশনের জন্যও দায়ী। চক্ষু বিশেষজ্ঞগণ এ সমস্যায় নির্ধারিত চোখের ড্রপ বা এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ প্রেস্ক্রাইব করতে পারেন। কারণের ওপর ভিত্তি করে কখনো কখনো আবার এন্টিবায়োটিকও প্রদান করা হয়।

 

যদি এ সমস্যা ইনফেকশনের কারণে না হয়ে থাকে, তাহলে তার সমাধানও ঘরোয়াভাবেই সম্ভব। সাধারণত পাতার শুষ্ক ত্বক মোকাবেলায় টপিকাল জেল বা ক্রিম প্রয়োগ করা যেতে পারে, শুধু খেয়াল রাখতে হবে এসব ক্রিম বা জেল যেনো কখনো চোখের ভেতর চলে না যায়। সেক্ষেত্রে চোখ লাল ও জ্বলুনি সহ আরো নানা ধরণের সমস্যা হতে পারে।

চর্ম বিশেষজ্ঞগণ এলোভেরা জেলকে চোখের পাতার শুষ্ক ত্বক সমস্যার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক নিরাময় হিসেবে গণ্য করে থাকেন। এটা যে কোন ধরণের ত্বককে আর্দ্র ও মোলায়েম করে তুলতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। চোখের পাতা ফেটে গেলেও এলোভেরা তার দ্রুত নিরাময়ে বেশ ভালো ফলদায়ক।

 

এলোভেরা জেল সরাসরি গাছ থেকে কিংবা নিকটস্থ ফার্মাসি থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী যতবার খুশি এটা আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করা যেতে পারে। নিয়মিত এটি ব্যবহারে এক, বড়জোর দুই সপ্তাহের মাঝে চোখের শুষ্ক ত্বক সমস্যার নিরাময় সম্ভব।

 

চোখের পাতার জন্য বিশেষ ময়েশ্চারাইজার এ শুষ্ক ত্বক সমস্যায় ব্যবহার করা যায়। সাধারণ বডি বা ফেইস ময়েশ্চারাইজার এর সাথে এর পার্থক্য হলো, এটি চোখের সংবেদী চামড়ার উপযোগী করে তৈরি। দিনে দুইবার এ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, চোখের পাতা থেকে চামড়া ওঠার সমস্যা দূর করে দিতে পারে দুই সপ্তাহের মাঝে।

কিছু কিছু কেমিক্যাল এ সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে আই শ্যাডো বা আই লাইনার ব্যবহারে এ সমস্যার উদ্ভব হয়। সে হিসেবে সংবেদী চামড়ার মানুষদের চোখের এ ধরণের কড়া মেকাপ এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়াও যাদের চোখের আশপাশের ত্বক শুষ্ক, তাদেরও কসমেটিকস ব্যবহার পরিহার করাটাই শ্রেয়। তা না হলে সমস্যা আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।

 

চোখের পাতার শুষ্ক ত্বক সমস্যা যেনো না হয়, সেজন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞগণ দিনশেষে সব মেকাপ তুলে ফেলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এটা করা যেতে পারে কোন এক মোলায়েম মুখ পরিষ্কারকের (gentle facial cleansers)সাহায্যে। তাছাড়া যাদের ক্রনিক ড্রাই স্কিনের সমস্যা আছে, তাদের কাস্টমাইজড প্রোডাক্ট ব্যবহার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান