কার্যকরী উপায়ে তেলাপোকার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের উপায়
বাসায় তেলাপোকার উপদ্রব হলে সবাই সেটা থেকে মুক্তির উপায় খুজবেন, এমনটাই স্বাভাবিক। কার্যকরী উপায় কিছু আছেও! এ লেখায় তেমনই কয়েকটি উপায়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
যারা তেলাপোকা দূর করার প্রাকৃতিক উপায় খোঁজেন, তাদের জন্য বোরিক এসিড সমৃদ্ধ ককরোচ বেইট একটা ভালো সমাধান হতে পারে। ময়দা, পানি আর বরিক এসিড সহযোগে গঠিত ছোট ছোট দানার (প্যালেট) মাধ্যমে যুগ যুগ ধরেই তেলাপোকা দূর করার কাজটি হয়ে আসছে। অনেকে আবার প্যালেটগুলোকে তেলাপোকার জন্য আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে তাতে কোকোয়া যোগের কথাও বলে থাকেন। সাধারণত বড় এবং বাচ্চা তেলাপোকাদের এসব প্যালেট খাওয়ানোর মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
এছাড়া তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণে স্প্রে ও ব্যবহার করা যায়। এসব স্প্রে আপনি সহজেই সুপারমার্কেট, হোম / গার্ডেন শপ কিংবা ডিসকাউন্ট রিটেইল স্টোরগুলোতে পাবেন। ঘরের আনাচে কানাচে এসব স্প্রে ব্যবহার করা হলে সেটা তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণে ভালো ভূমিকা রাখে। অনেকে আবার বলেন, স্প্রে করা জায়গা ঘুরে আসা তেলাপোকা তার পায়ে করে এ বিষাক্ত পদার্থ বয়ে নিয়ে যায়। ফলে মূল কলোনিটাও হয়ে পড়ে আক্রান্ত।
তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণের কিছু বাণিজ্যিক ওষুধও আছে। এসব ওষুধের বিভিন্ন কেমিক্যাল শুধুমাত্র তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণ করেই ক্ষান্ত হয় না, অনেক সময় তেলাপোকার মৃত্যুর কারণও হয়। ঘরোয়াভাবে প্রস্তুত বরিক এসিড সমৃদ্ধ নিয়ন্ত্রণকারী পদার্থের সাথে মিলে এসব প্রোডাক্ট তেলাপোকা মেরে ফেলার মাধ্যমে সমস্যার অনেকখানিই সমাধান করে।
তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণের আরেকটা পদ্ধতি হলো ককরোচ ট্র্যাপ। এক্ষেত্রে কোন ধরণের স্প্রে বা প্যালেট ব্যবহার করার বদলে ট্র্যাপ বা ফাঁদের দিকে তেলাপোকাকে আকর্ষণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। একবার ফাঁদে আটকে যাওয়ার পর সেখান থেকে বেরুনো আর তাদের পক্ষে সম্ভবপর হয়ে উঠে না। এভাবে একটা সময় পুরো ট্র্যাপটাই ময়লায় ফেলে দেওয়া হলে তেলাপোকা দূরীকরণের কাজটা সম্পন্ন হয়।
যখন এসব কোনকিছুই ঠিকভাবে কাজ করে না, তখন আপনি তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণে পেশাদার এক্স-টার্মিনেটরদের খবর দিতে পারেন। উনারা প্রথমে পুরো পরিস্থিতি যাচাই করে দেখেন, তারপর তেলাপোকার বিস্তৃতির মূল্যায়ন অনুযায়ী সেটার কলোনি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। উপরন্তু নিকট ভবিষ্যতে পুনরায় তেলাপোকার ফিরে আসা রোধ করতে তারা কিছু শক্তিশালী বাণিজ্যিক কেমিক্যালও ব্যবহার করতে পারেন। অনেক সময় বাড়ির মালিকদেরকে এসব এক্স-টার্মিনেটরদের সাথে একটা চুক্তিতেও উপনীত হতে দেখা যায়। চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিতভাবে (হয়তো প্রতি মাসে একবার) এক্স-টার্মিনেটর এসে উল্লিখিত কেমিক্যাল পুনরায় ব্যবহার করে যেতে পারেন। এতে তেলাপোকার ঘন ঘন উপদ্রব অনেকাংশেই কমে।
ঘরে বিভিন পোকা-মাকড়ের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের কাজটা বেশ কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক সহজে এবং কম সময়ে তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণের কাজটা করা সম্ভব। তবে যদি ঘরোয়া পদ্ধতি কিংবা বাণিজ্যিক ওষুধ প্রয়োগ, কোন কিছুতেই কাজ না হয়, সেক্ষেত্রে পেশাদার কারো সাথে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না। তিনিই তখন যথাযথ এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে আপনার বাড়িটাকে তেলাপোকার উপদ্রব থেকে নিরাপদ রাখতে সচেষ্ট হবেন।
Comments
Post a Comment