চেস্ট কনজেশন সমস্যা মোকাবেলায় কিছু ঘরোয়া সমাধান
চেস্ট কনজেশনের মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরণের ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এরই মধ্যে একটি হলো এরোমাথেরাপি। এছাড়াও রয়েছে চা কিংবা কফির মত গরম পানীয় গ্রহণ, স্টিম থেরাপি, অথবা পিয়াজ, রসুন আর আদাযুক্ত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ ইত্যাদি।
এরোমাথেরাপি আর এসেনশিয়াল অয়েল- প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই চেস্ট থেরাপিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইউক্যালিপ্টাস, পেপারমিন্ট থেকে প্রাপ্ত অয়েল এবং ল্যাভেন্ডার ভ্যাপোরাইজার, এরোমা ল্যাম্প কিংবা হিউমিডিফায়ারে যোগ করা হলে এয়ার প্যাসেজ এবং মিউকাস ভর্তি ফুসফুস পরিষ্কারে তা ভূমিকা রাখে। কিছু গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ইউক্যালিপ্টাস এসেনশিয়াল অয়েল ব্যাক্টেরিয়া নিধনে সহায়তা করে। সেক্ষেত্রে ব্যাক্টেরিয়া ইনফেকশনের কারণে চেস্ট কনজেশন হলে এই তেল ভালো উপকারে আসে।
কনসেন্ট্রেটেড ডোজ পেতে ইউক্যালিপ্টাস, পেপারমিন্ট কিংবা ল্যাভেন্ডার অয়েলের কয়েক ফোটা গরম হতে থাকা পানিতে যোগ করুন। ঠান্ডাজ্বর (কমন কোল্ড) বা চেস্ট কনজেশন আক্রান্ত ব্যক্তি এ মিশ্রণের বাষ্প নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করতে পারেন। এতে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এসব অয়েল কোন ক্যারিয়ার অয়েল অথবা পেট্রোলিয়াম জেলির সাথেও যোগ করে বুকের ওপর নীচে মালিশ করা যায়।
মধু বা লেবুযুক্ত হার্বাল চা চেস্ট কনজেশন সমস্যা মোকাবেলায় ভালো কার্যকর। লেবুর রস মিউকাস কমিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে। অন্যদিকে মধু গলা ব্যথা সমস্যায় উপকার দেয়। একটা লেবুর মোটামুটি অর্ধেক রস টি-ব্যাগ যোগের সময়ই গরম পানিতে মিশিয়ে নিতে পারেন, আর মধু যোগ করতে চাইলে সেটা করবেন চা পরিবেশনের আগে আগে।
এক কাপ গরম কফি (সম্ভব হলে ক্রিম ছাড়া) চেস্ট কনজেশন উপশমে ভালো কাজে দেয়। ক্যাফেইন শ্বাস-প্রশ্বাস চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে ভূমিকা রাখে, এতে নিঃশ্বাস নেওয়াটা সহজ হয়। কফির উষ্ণতা মিউকাস দূর করতে সাহায্য করে, যেটা বুকে চাপ অনুভূতির তীব্রতা হ্রাস করে। এম্নিতে সামান্য ক্রিম নেওয় হলে সেটা ঠিক আছে, তবে সাধারণত দুধের বিভিন্ন জিনিস মিউকাস তৈরিতে সহায়তা করে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
বদ্ধ বাথরুমে গরম পানি দিয়ে গোসল মিউকাস দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। পানির বাষ্প নিঃশ্বাস গ্রহণ সহজতর করে। তাছাড়া এটি কোন জ্বালা বা ব্যথার অনুভূতি হ্রাসেও ভালো কার্যকর। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা ফ্লু এর কারণে সৃষ্ট চেস্ট কনজেশনের সাথে কখনো কখনো এসব জ্বালা/ব্যথার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
পিয়াজ, রসুন বা আদার মতন এরোমেটিক সমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ করা হলেও তা শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করার মধ্য দিয়ে ফুসফুসের ওপর চাপ কমায়। ওসব উপাদান সাধারণত চিকেন স্যুপে পাওয়া যায় বলে ঠান্ডা/ ফ্লু সমস্যায় অনেকেই চিকেন স্যুপ খেতে উপদেশ দেন। এসব স্যুপ কিংবা অন্যান্য খাবারে লেবুর রস যোগ করা হলে তা মিউকাস হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে বলে এটাও চেস্ট কনজেশন সমস্যা মোকাবেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক ঘরোয়া নিরাময় হিসেবে স্বীকৃত।
Comments
Post a Comment