বিভিন্ন ধরণের আয়ুর্বেদিক নিরাময় পরিচিতি

 

আয়ুর্বেদিক মেডিসিন এর আয়ুর্বেদ শব্দটা দু'টো সংস্কৃত শব্দ 'আয়ুর' (অর্থাৎ জীবন) এবং 'ভেদা' (জ্ঞান) সমন্বয়ে গঠিত। এ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন হলো পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বিকল্প চিকিৎসাশাস্ত্র। অনেকে মনে করেন- এর উৎস হলো প্রাচীন ভারত এবং এর সাথে বেদ ও হিন্দু ধর্মের বেশ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

 

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের মৌলিক দর্শনটা হলো- আমাদের শরীর, মন ও আত্মা পরস্পরের সাথে যুক্ত এবং যখনই মন ও আত্মার মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখনই আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। এ শাস্ত্র শারীরিক সমস্যার কিছু বাহ্যিক লক্ষণের চিকিৎসার পরিবর্তে এর মূলে পৌছুতে চায়। এম্নিতে ব্রণ, মাথাব্যথা, অনিদ্রা কিংবা এলার্জির মত নানা ধরণের সাধারণ অসুস্থতা নিরাময়ে বেশ কিছু আয়ুর্বেদিক পদ্ধতির অস্তিত্ব আছে।

 

সাধারণভাবে আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে ধরে নেওয়া হয়, ব্রণ হলো অসঙ্গত খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপের মত আরো কিছু অভ্যন্তরীন বিষয়ের ফলাফল। তাই একজন আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে ঠান্ডা, তৈলাক্ত, ঝাল কিংবা নানারকম মিষ্টি খাবার (সুগারি ফুড) এড়িয়ে চলার পাশাপাশি বেশি করে সবুজ শাকসবজি এবং তাজা ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ব্রণ মোকাবেলার বিভিন্ন ঘরোয়া আয়ুর্বেদিক পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে- ত্বকে জিরা (কিউমিন সিডস), কমলার বিচি, স্কোয়াশ এবং পেঁপের মাস্ক ব্যবহারসহ বাটারমিল্ক (ঘোল) দিয়ে মুখ ধৌতকরণ ইত্যাদি।

 

মাথাব্যথার সমস্যাও অনেক মানুষের জন্য অনেক বড় সমস্যা। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে এ মাথাব্যথা সমস্যারও বিভিন্ন ঘরোয়া নিরাময় রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমে দেখা হয় মাথাব্যথার উৎপত্তিস্থল আসলে কোন জায়গাটি। যেমন অনেকে মনে করেন মস্তিষ্কের টেম্পল এরিয়া থেকে মাথাব্যথার উৎপত্তি হলে সেটা ক্যাটার‍্যাক্ট হওয়ার লক্ষণ। এসব মাথাব্যথা সমস্যার কিছু ঘরোয়া উপশমের মধ্যে রয়েছে কপালে চন্দনকাঠ ঘষা, মাথায় রক্ত চলাচল বাড়াতে যোগব্যয়াম (হ্যান্ডস্ট্যান্ড) করা, কিংবা এক চা-চামচ মধু গরম পানিতে মিশিয়ে সে পানি পান।  

 

যারা ইনসমনিয়া বা অনিদ্রায় আক্রান্ত, আয়ুর্বেদশাস্ত্রে তাদের জন্যও করণীয় রয়েছে। মেডিটেশন, ইয়োগা এবং কিছু নিঃশ্বাসের ব্যয়াম আপনার চঞ্চল মনকে প্রশান্ত করে নিদ্রা যেতে সহায়তা করে। এছাড়াও গোলাপজল (রোজওয়াটার) দিয়ে আলতোভাবে চোখ ধোয়া, ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুল আচড়ানো, শরীর মেসেজ কিংবা সেক্স করা হলেও তা অনিদ্রা মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারে। কেউ কেউ মনে করেন, সুর্যাস্তের আগে রাতের খাবার গ্রহণ করা হলে এবং তার দুই ঘন্টা বাদে কুসুম গরম পানিতে গোসল সেরে নিলে সেটাও সুনিদ্রার জন্য সহায়ক।

 

এলার্জি উপশমেও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নানা ঘরোয়া পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। ধারণা করা হয়- সিজনাল এলার্জির পেছনে দায়ী হলো ধুলোবালি (আর্থ)। তাছাড়া অনেক সময় শ্বাসকষ্টও (কনজেশন) হতে পারে। বিশেষজ্ঞগণ এক্ষেত্রে দুধের খাবার, মাংস এবং বাদাম জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে ও রাতে দেরি করে না খেতে উৎসাহিত করে থাকেন। যখন কেউ শ্বাসকষ্ট (কনজেশন) সমস্যায় আক্রান্ত হন, তখন এম্নিতে বলা হয়- প্রতিবার খাওয়ার পর আধা চা-চামচ লিকোরিস (যষ্টি মধু) গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেতে, এবং দিনে তিনবেলা খালি পেটে এক চা-চামচ করে মধু খেতে।  আশা করা যায়- এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন। 

 

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান