কম খরচে এবং নিরাপদ উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ঈস্ট ইনফেকশন মোকাবেলা করার উপায়
ঈস্ট ইনফেকশন মূলত হয় স্তনের নীচে, যোনী কিংবা স্কিনফোল্ডের নীচে অথবা কখনো কখনো তলপেটের নিম্নাংশে। তবে এ ইনফেকশন বা তার জ্বলুনি নিয়ে খুব একটা চিন্তার কিছু নেই। তাছাড়া এর চিকিৎসায় আপনাকে যে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করতে হবে- এমনটিও নয়। ঘরোয়া নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে নিরাপদে এবং কম খরচে আপনি সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে এসব ঘরোয়া নিরাময় পদ্ধতি যেটাই হোক না কেন, খেয়াল রাখতে হবে- আপনার শরীর যেনো সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে এবং আক্রান্ত অংশ সর্বদা শুষ্ক থাকে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে ট্যালকম পাউডার প্রয়োগ করে সংক্রমিত অংশটুকু শুষ্ক এবং পরিষ্কার রাখা সম্ভব।
সাদা ভিনেগার (হোয়াইট ভিনেগার) এ ঈস্ট ইনফেকশন সমস্যার একটি কার্যকরী নিরাময় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাছাড়া এটি আক্রান্ত স্থানে ঈস্ট সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট বাজে গন্ধ থেকেও আপনাকে পরিত্রাণ দেবে। ঈস্টের ফলে সৃষ্ট জ্বলুনি কমাতেও এটা ভালো কার্যকর। আপনি সরাসরি আক্রান্ত স্থানে এ ভিনেগার প্রয়োগ করতে পারেন বা চাইলে ডুশ ও দিতে পারেন।
সাদা ভিনেগার পাওয়া না গেলে আপেল সাইডার ভিনেগারও ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা ফাস্ট এইড হিসেবে বেশ ভালো কাজে দেয়। তাছাড়া পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াহীন এ উপাদান আপনার ত্বকের রঙটাকেও অপরিবর্তিত রাখে। তাই ঈস্ট ইনফেকশনে এটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি ঘরোয়া নিরাময়।
উপরে যেগুলোর কথা বলা হলো- এর সবটাই বাইরে থেকে প্রয়োগ করা হয়। তবে ঈস্ট ইনফেকশন নিরাময়ে কিছু কিছু জিনিস আপনি আপনার শরীরের ভেতরও গ্রহণ করতে পারেন। যেমন - এক্ষেত্রে দই এর কথা বলা যেতে পারে। সব সময় চিনি ছাড়া ফ্লেভার বিহীন প্লেইন দই গ্রহণ করুন। সেটা হতে পারে ঘরে তৈরি। এই দইটা স্রেফ খেয়ে নিলে ভালো উপকার পাবেন, কারণ দই এন্টি-ব্যাক্টিরিয়াল গুণাগুণ সমৃদ্ধ। তাছাড়া চাইলে এটিকে আক্রান্ত স্থানেও প্রয়োগ করা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেনো খুব বেশি সময় ধরে এ দই আবার শরীরে মেখে না রাখেন, তাতে দইয়ের আর্দ্রতা আপনার জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হতে পারে। সুতরাং প্রয়োগের ১০-১৫ মিনিট পর দইটুকু ধুয়ে ফেলুন।
ফাঙ্গাস কিংবা ঈস্ট ইত্যাদির আরেকটি শত্রু হলো রসুন। রসুনের কয়েক কোয়া নিয়ে সেটাকে ভালোমত পিষে ঐ পেস্ট আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ঈস্টের বাজে গন্ধটা দূর হলেও রসুনের নিজস্ব তীব্র গন্ধটা থেকে যায়, যেটা অনেকের জন্যই অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে যেটাই হোক- ঈস্ট ইনফেকশন উপশমে এ রসুনও আরেকটি ভালো এবং কার্যকর ঘরোয়া নিরাময় যেটা কি না এন্টি-ব্যাক্টিরিয়াল এবং এন্টি-সেপটিক গুণাগুণ সমৃদ্ধ।
এদের মধ্যে সব থেকে ভালো পদ্ধতিটি হলো প্রচুর পরিমাণে পানি পান। দিনে অন্তত ৪-৫ গ্লাস পানি পান করুন। তাছাড়া আক্রান্ত অংশগুলোও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধৌত করুন। এক্ষেত্রে ফিল্টার পানি বা মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করাটাই ভালো। এ পানি শরীরকে ভেতর কিংবা বাহির- দু'দিক থেকেই পরিষ্কার করে।
তাছাড়া ওরেগেনো হার্ব এর মত বিভিন্ন রকমের হার্বও (গুল্ম) ঈস্ট ইনফেকশন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতে পারে।
ঈস্ট ইনফেকশনের এসব ঘরোয়া নিরাময় এম্নিতে খুব সহজলভ্য এবং কার্যকরীও বটে। তাছাড়া এগুলো বেশ সস্তায়ও পাবেন। সব থেকে বড় কথা হলো- এরা একেবারেই পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াহীন; আর তাই শরীরের জন্যও ভালো।
Comments
Post a Comment