চ্যাফিং নিরাময়ের কিছু উৎকৃষ্ট ঘরোয়া পদ্ধতি
দীর্ঘসময় ধরে কাপড় কিংবা চামড়ার সাথে ঘষা খেয়ে শরীরের অংশবিশেষ লাল হয়ে/ ছিলে গেলে সেটাকে চ্যাফিং বলা হয়। যদিও এর নিরাময়ে বিভিন্ন ধরণের মেডিকেল অয়েনমেন্ট ব্যবহার করা যায়, তথাপি চ্যাফিং প্রতিরোধ এবং এর উপশমে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিও আছে। চ্যাফিং প্রতিরোধে যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করুন, ত্বক পুরোপুরি শুকনো রাখুন এবং আঁটসাঁট অথচ স্বস্তিদায়ক পোশাক পরিধান করুন। কোন কারণে চ্যাফিং আক্রান্ত হলে ব্যথা নিবারণ ও দ্রুত সুস্থতার জন্য এলোই (এলোভারের নির্যাস/ এক্সট্রাক্ট) কিংবা জিংক অক্সাইড জাতীয় আরামদায়ক পদার্থ এবং টপিক্যাল ভিটামিন ব্যবহার করতে পারেন।
প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম- কথাটা চ্যাফিং এর ক্ষেত্রেও খাটে। এ সমস্যা প্রতিরোধে আপনাকে যথাসম্ভব হাইড্রেটেড থাকতে হবে। প্রচুর পানি পান আপনার ঘাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং শারীরিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সময় ঘর্ষণ প্রতিরোধ করে। বেশিরভাগ সময়েই হাইড্রেটেড ত্বক স্বাস্থ্যকর এবং সেটা শুষ্ক ত্বক অপেক্ষা অনেক কম জ্বলুনি আক্রান্ত হয়।
যদি ব্যায়াম বাদে অন্য কোন কারণে চ্যাফিং আক্রান্ত হন, তবে আপনার ত্বককে সবসময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। ট্যালকম পাউডার, বেবি পাউডার এবং কর্ণস্টার্চ আপনার ত্বকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা জমার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। প্রয়োজন হলে- শরীরের সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে চ্যাফিং প্রতিরোধে ব্যান্ডেজ পেচিয়ে নিতে পারেন।
চ্যাফিং মোকাবেলায় আরেকটা উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো পরিধেয় বস্ত্র নির্বাচন। চ্যাফিং আক্রান্ত হলে এমন কাপড় পরিধান করুন যেটা আপনার ত্বকের সাথে ঘষা খাবে না। তাছাড়া এমন ফ্যাব্রিকের কাপড় নির্বাচন করা উচিত যেটা কি না স্বস্তিদায়ক এবং জ্বলুনি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে না। যেসব ফ্যাব্রিক ত্বক থেকে আর্দ্রতা শোষণে ভূমিকা রাখে, সেগুলোও চ্যাফিং প্রতিরোধে কার্যকর। তাছাড়া যখনি আপনার কাপড় ড্যাম্প হয়ে আসবে, তখনি সেটা পালটে পরিবর্তে শুকনো কাপড় বেছে নিন।
চ্যাফিং আক্রান্ত স্থানের জ্বলুনি কমাতে বেবি ওয়েল কিংবা পেট্রোলিয়াম জাতীয় লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া ব্যথা কমাতে, ত্বকের আর্দ্রতা ও সুস্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে এলোই (এলোভেরার নির্যাস)টাও এক্ষেত্রে ভালো কার্যকর। জিংক অক্সাইড ক্রিম কিংবা পাউডারও চ্যাফিং এর ব্যথা নিরাময়ে ভালো ভূমিকা পালন করে।
কিছু কিছু ভিটামিনও চ্যাফিং সমস্যা মোকাবেলায় ভালো ভূমিকা রাখে। ভিটামিন এ , ডি এবং ই সমৃদ্ধ টপিক্যাল ক্রিম ত্বকের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। ঘরে এ জাতীয় ক্রিম না থাকলে, এলোই কিংবা পেট্রোলিয়াম জেলিতে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট মিশিয়ে বিকল্প অয়েনমেন্ট তৈরি করে নিতে পারেন। এভাবে তৈরি অয়েনমেন্ট চ্যাফিং আক্রান্ত ত্বকের সুস্থতার জন্য খুবই উপকারী।
Comments
Post a Comment