ঘরোয়াভাবে আই-ওয়াশ তৈরির উপায়
বিভিন্ন ছোটখাট সমস্যায় অনেকেই ঘরোয়া নানা নিরাময় খোঁজেন। যেমন- চোখের কিছু সমস্যা অনেকে ঘরোয়া পদ্ধতিতে মোকাবেলা করতে চান। এসব সমস্যার মধ্যে আছে চোখের এলার্জি, অথবা চোখ লাল হয়ে চুলকানো ইত্যাদি। অনেকে আবার ঘরোয়াভাবে তৈরি আই-ওয়াশকে ক্লান্ত-দেখানো চোখের উপরও ব্যবহার করেন। এতে সে ক্লান্তভাব অনেকাংশেই কেটে যায়।
ঘরায়াভাবে তৈরি আই-ওয়াশের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেনো কোনভাবেই ট্যাপের পানি ব্যবহার না করা হয়। কেননা এসব ট্যাপের পানিতে বিভিন্ন রকম কেমিক্যাল উপস্থিত থাকতে পারে, যেটা কি না আপনার চোখের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া এই আই-ওয়াশের বিভিন্ন উপাদানও ব্যাক্টিরিয়া কর্তৃক দুষিত হতে পারে, যার কারণে এমনকি হতে পারে সিরিয়াস আই-ইনফেকশন !
ঘরোয়াভাবে আই-ওয়াশ প্রস্তুত করার সময় ডিসটিলড ওয়াটার ব্যবহার করাটাই আসলে উচিত, কেননা এটি বিভিন্ন রকম ক্ষতিকর কেমিক্যাল মুক্ত। এবং সাথে এটাও খেয়াল রাখতে হবে- যে কোন প্রিপারেশনই যেনো হয় ফোটানো। এরপর কিছুক্ষণ রেখে দিয়ে ঠান্ডা করে সেটাকে ব্যবহার করা যেতে পারে। এভাবে করা হলে বিভিন্ন ব্যক্টেরিয়া বা কেমিক্যাল দ্বারা চোখ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাটা কমে যায়।
ঘরোয়াভাবে আই-ওয়াশ তৈরি করার একটি সহজ উপায় হলো- এক কাপ পানিতে এক চা-চামচ লবণ যোগ করে সেটা ফোটানো। কেউ কেউ এটাতে গুল্ম (হার্ব) অথবা টিংচার যোগ করতেও বলে থাকেন। অবশ্য এসব গুল্ম ব্যবহারের সময় এলার্জির বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে। অনেকের বিভিন্ন গুল্মের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা থাকে, সেসব ক্ষেত্রে ঐ সকল গুল্ম এড়িয়ে চলাটাই শ্রেয়। এবং অবশ্যই সে আই-ওয়াশ ব্যবহার করার আগে সেটাকে ছেঁকে গুল্মের অবশিষ্টাংশ থেকে মুক্ত করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে কয়েক দফা ছেঁকে নেওয়ার পাশাপাশি কফি ফিল্টারও ব্যবহার করা যায়।
গ্রিন টি এবং ডিসটিলড ওয়াটার মিশিয়েও আপনি ঘরোয়াভাবে আই-ওয়াশ তৈরি করতে পারেন। পানির দ্বিগুন গ্রিন টি যোগ করে এটা তৈরি করা হয়ে থাকে, যা চোখের চুলকানি/ জ্বলুনি সমস্যায় উপকার দিতে পারে। অনেকে আবার সরাসরি টি-ব্যাগ চোখে ব্যবহার করতে বলেন। এতে চোখের ফোলাভাব এবং ডার্ক সার্কেল কমে আসতে পারে।
এসব ঘরোয়া আই-ওয়াশ কখনোই এক/দুই দিনের বেশি রেখে দেওয়াটা ঠিক নয়। কেননা এর মধ্যে তো কোন প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ থাকে না, ফলে বেশিদিন রেখে দিলে তা চোখে ব্যাক্টিরিয়া সমস্যা তৈরি করতে পারে। এম্নিতে দোকানে কিছু হার্বাল প্রিপারেশন পাওয়া যায় যেগুলো ঘরোয়া নানা পদ্ধতির তুলনায় সুবিধাজনক বেশি।
এসব ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহারের আগে আরেকটা জিনিস বুঝে নেওয়াটা জরুরি, আর তা হলো- আপনার চোখের অবস্থা আসলে কতটা খারাপ? এর কি আসলে কোন মেডিকেল ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন? চোখ বারবার শুকিয়ে এলে বা এলার্জির চুলকানো অনুভূতি হলে হয়তো এসব ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহারে উপকার পেতে পারেন। কিন্তু ব্যাক্টিরিয়ার কারণে চোখ লাল হওয়া জাতীয় সমস্যাগুলোয় এসব ব্যবহারে আরাম পাবেন না। বরং এটার জন্য প্রয়োজন হবে কোন এন্টি-বায়োটিক ড্রপ, যেটা হয়তো আপনার ডাক্তারই আপনাকে বলে দেবে। তেমনিভাবে ক্রনিক ড্রাই আই এর সমস্যা হলেও ডাক্তার দেখানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ, কেননা তা শারীরিক অন্য জটিলতারও কোন ইঙ্গিত হতে পারে।
এছাড়া ঘরোয়াভাবে তৈরি আই-ওয়াশ ব্যবহারের আগেও ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেওয়াটা ভালো। সেক্ষেত্রে এতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান আপনার চোখের জন্য আবার অন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে কি না- সেটাও নিশ্চিত হয়ে নেওয়া যাবে। সাধারণত স্যালাইন আই ওয়াশ ব্যবহার এবং প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ডাক্তারেরা আপনাকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ দিতে পারে। উপরন্তু বিভিন্ন গুল্ম এবং টিংচার ব্যবহারের বিষয়টা হয়তো আপনাকে একেবারেই এড়িয়ে চলতে বলবে ডাক্তারগণ ।
Comments
Post a Comment