ভালোভাবে কান পরিষ্কারের উপায়

 

ধারণা করা হয়- নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখাতে চাইলে এর প্রথম শর্তই হলো দাঁত, মুখ এবং চুল পরিষ্কার রাখা। আমাদের মধ্যে তাই অনেকেই এ তিনটি জিনিসের দিকে লক্ষ্য রাখতে গিয়ে কান পরিষ্কার রাখার ব্যাপারটা ভুলে যান; ফলশ্রুতিতে কান হয়ে ওঠে ময়লা জমার এক আদর্শ স্থান। তাছাড়া কানের ভেতর উৎপন্ন খৈল সময়ের সাথে সাথে হয়তো বাড়তেও পারে। তাই এ লেখাটি কান এবং তার খৈল পরিষ্কার করা বিষয়ক।

 

কান পরিষ্কার রাখার প্রাথমিক ধাপ হলো কানের খৈল পরিষ্কার। অতিরিক্ত খৈল দূর করতে ইয়ারওয়াক্স রিমুভাল কিট ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে কানে ইয়ারওয়াক্স ড্রপ ঢেলে কাত হয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন, যেনো সেটা ইয়ার ক্যানেল দিয়ে যথাযথভাবে কানের ভেতর ঢুকতে পারে। কয়েক মিনিট পর উঠে গরম পানি দিয়ে কান ধুয়ে ফেলুন। নরম কাপড় দিয়ে এরপর ভালোমত কান মুছে নিন।

 

ইয়ারওয়াক্স রিমুভাল কিট এর বদলে আপনি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডও ব্যবহার করতে পারেন। এটা গাঢ় হয়ে জমা ঘন খৈলের জন্য খুব একটা কার্যকর না হলেও মাঝারি পরিমাণ খৈল পরিষ্কারের ভালো উপযোগী। একটি বাল্ব সিরিঞ্জের মাধ্যমে শুয়ে কানের ভেতর ফোটা ফোটা করে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড প্রবেশ করান। কয়েক মিনিট পর কান গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল রাখতে হবে- সপ্তাহে যেনো একবারের বেশি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহার না করা হয়, সেক্ষেত্রে কানের ভেতরটা (ইয়ার ক্যানেল) অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

কানের ভেতরের মত বাইরেও কিন্তু ময়লা/ খৈল তৈরি হয়। কানের পেছনের এই ময়লা পরিষ্কার করতে সাবান এবং গরম পানি ব্যবহার করে ওয়াশক্লথ দিয়ে হালকাভাবে ঘষে সে ময়লা তুলে ফেলতে পারেন। বলা বাহুল্য- গোসলের সময়ই এ কাজ করাটা সব থেকে সুবিধাজনক। নরম একটা তোয়ালে দিয়ে তারপর কানের জায়গাটা পুরোপুরি মুছে ফেলুন। সবশেষে রাবিং এলকোহল এবং তুলো দিয়ে মুছে বাকি খৈল (যদি কিছু থেকে থাকে) বা সাবানের ফেনাটুকু পরিষ্কার করে ফেলতে পারেন।

   

ওয়াশক্লথ ব্যবহার করে কানের ভেতরটা(ইয়ার ক্যানাল) পরিষ্কার করুন। এক্ষেত্রে কটন বাড ব্যবহার করাটা উচিত নয়, কারণ তা ইয়ারড্রাম (কানের পর্দা) এর ক্ষতি করতে পারে। ওয়াশক্লথটাকে কেনে আঙ্গুলে পেচিয়ে কানের ভেতর যতদূর যায়, ততদূর পর্যন্ত ঘষে পরিষ্কার করে নিন। তারপর টাওয়েল দিয়ে মুছে ফেলুন ( then towel dry)তুলো এবং রাবিং এলকোহল দিয়ে কানের উচুনীচু অংশ ঘষে পরিষ্কার করে নিন।

 

খেয়াল রাখতে হবে- অতিরিক্ত খৈল জমে গেলে সেটা পরিষ্কার করাটা খুব কষ্টকর হতে পারে। বিশেষ করে খৈল যখন কানের একেবারে ভেতর পর্যন্ত পৌছে যায়, তখন। সেক্ষেত্রে একজন নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এ জাতীয় পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্রবণ শক্তি বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার আগেই বিশেষ ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করে রোগীর কান পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। এছাড়া, কানের বেশি গভীরে পৌছে যাওয়া খৈল কখনোই কটন বাড ব্যবহার করে পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে যাওয়া উচিত নয়। এতে ইয়ারড্রাম (কানের পর্দা) ছিদ্র হয়ে গিয়ে এমনকি চিরতরে আপনার শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে।     

 

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান