ব্রণ নিরাময়ের কিছু উপযুক্ত ঘরোয়া পদ্ধতি
ব্রণের ঘরোয়া নিরাময় বলতে হাতের কাছের নানা জিনিস দিয়ে তৈরি এমন কিছুকে বোঝায় যেটা কি না মৃদু থেকে মাঝারি ব্রণ-সমস্যার প্রকোপ কমায়। এক্সফোলিয়েন্ট, মাস্ক এবং দাগের নিরাময়- এসবই সাধারণ নানা উপাদান থেকেই তৈরি সম্ভব যেটা কি না পৃথকভাবে অথবা কেমিক্যাল ব্রণের ওষুধের সাথে ব্রণ সমস্যা সার্বিক মোকাবেলায় ব্যবহৃত হতে পারে। অবশ্য ব্রণের এসব ঘরোয়া নিরাময় তৈরির সময় কিছু কিছু উপাদান- যেটা থেকে কি না এলার্জির সমস্যা হতে পারে- এর ব্যাপারে সাবধান থাকাটা ভালো; যেমন- এসপিরিন, ডিম, বাদাম এবং কিছু কিছু ফল কিংবা শাক-সবজির প্রতি এলার্জি, ঘরোয়া ব্রণ নিরাময়ের পদ্ধতিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। এম্নিতে যদি আপনি মনে করেন- ব্রণ নিরাময়ের ঘরোয়া পদ্ধতিতে এমন কোন উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে, যেটাতে আপনার এলার্জি আছে/ হতে পারে- তবে সে পদ্ধতি পরিহার করাটাই শ্রেয়।
ব্রণ সমস্যায় এক্সফোলিয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এমন কিছু তৈরি করাটা আসলে খুবই সহজ। বেকিং সোডার এন্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং এন্টি-ফাঙ্গাল গুণের কারণে এটি ব্যবহার করে অসাধারণ এক ধরণের এক্সফলিয়েন্ট তৈরি করা যায়। এক মুঠ বেকিং সোডা নিয়ে সেটাকে প্রথমে পানি দিয়ে ভিজাতে হবে, তারপর তা খুব যত্নের সাথে মুখের উপর মাখাতে হবে। বৃত্তাকারে তা মাখানো হলে সেটা মৃত চামড়া অপসারণ এবং ছিদ্র পুরোপুরি পরিষ্কারে সহায়তা করবে। চিনি আর লবণ গ্রেপসিড কিংবা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়েও এক্সফলিয়েন্ট তৈরি করা যায়, যেটা কি না ত্বকের শুষ্কতা প্রতিরোধ এবং মৃত চামড়া অপসারণে ভূমিকা রাখবে। বেকিং সোডা অথবা লবণের এক্সফলিয়েন্টে এক ফোটা টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল যোগ করা হলে তার এন্টি-সেপটিক গুণাগুণ আরো বৃদ্ধি পাবে, এবং তা নতুন -পুরাতন দাগ মোকাবেলায়ও কাজ করবে।
সহজে মাস্ক তৈরি করেও ব্রণ সমস্যা মোকাবেলায় তা ব্যবহার করা যেতে পারে। মাস্ক হলো একরকমের মোটা প্রলেপের মত, যেটা কি না সপ্তাহে কয়েকবার ত্বকে প্রয়োগ করে ১০/২০ মিনিটের মত রেখে দিতে হয়। এসপিরিন ট্যাবলেট পানিতে দ্রবীভূত করে সেটাতে মধু মিশিয়ে যে মাস্ক তৈরি করা হয়, তা ব্রণ নিরাময়ে বেশ কার্যকর। এটা সাময়িকভাবে লালচে রঙ দূরীকরণে ভালো কাজে দেয়, তবে খেয়াল রাখতে হবে- যাদের এসপিরিনে এলার্জি আছে, তাদের এ মাস্ক ব্যবহার করাটা উচিত নয়। ওটমিলের সাথে পানি মিশিয়ে তৈরি মাস্কও ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক বানিয়ে না ফেলে- সেটার তেলতেলে ভাব দূরীকরণে সহায়ক হতে পারে। একইসাথে এটা ব্যবহার ব্ল্যাকহেড মোকাবেলায়ও ভূমিকা রাখবে।
যদি ব্রণ চলে যাওয়ার পরও আপনার মুখে দাগ বা লাল দাগ থেকে যায়, তবে ঘরোয়াভাবে সেটা নিরাময়ের চেষ্টা করা যেতে পারে। এ জাতীয় পদ্ধতি সাময়িকভাবে লালচে ভাব দূর কিংবা নতুন কোষ তৈরির মাধ্যমে পুরনো দাগ দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে কেউ কেউ লেবুর রস বা ফ্রেশ টমেটো জুস সারারাত মুখে মেখে রেখে দিতে বলেন; এগুলোর সাইট্রিক এসিড দাগ হালকা করতে ভূমিকা রাখে। স্রেফ অলিভ বা গ্রেপসিড অয়েল মাস্কও অতিরিক্ত আর্দ্রতার মাধ্যমে ত্বক নরম করে দাগ নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
Comments
Post a Comment