কন্সটিপেশন সমস্যা মোকাবেলায় কিছু ঘরোয়া উপায়

শুষ্ক মল কিংবা তাগিদ থাকার পরও মলত্যাগে কষ্ট হওয়ার মত কিছু লক্ষণ দেখা গেলে বোঝা যায় যে আপনি হয়তো কন্সটিপেশন সমস্যায় আক্রান্ত। নিম্নমানের ডায়েট এবং অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল কন্সটিপেশনের সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। প্রায়ই মাংস খাওয়ার অভ্যাসও কন্সটিপেশনের জন্য দায়ী। যাই হোক- এম্নিতে বাজারে নানা ধরণের ল্যাক্সেটিভ থাকায় কোনটি আসলে আমাদের শরীরের জন্য মানানসই, সেটা খুঁজে বের করাটা কষ্টকর। এমনকি মাঝে মাঝে এ ল্যাক্সেটিভ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। তাছাড়া কিছু কিছু ল্যাক্সেটিভের ক্ষেত্রে এমনো হয় যে আপনি যত বেশি সেগুলো খাবেন, তত বেশি আরো ল্যাক্সেটিভ প্রয়োজন হবে। একটা সময় দেখা যাবে হয়তো আপনি ল্যাক্সেটিভ ছাড়া ঠিকঠাক মলত্যাগও করতে পারছেন না। ল্যাক্সেটিভের ওপর এই অতি নির্ভরতা কমাতে অনেকে কন্সটিপেশন উপশমে ঘরোয়া নানা পদ্ধতিও ব্যবহার করে থাকেন; এ লেখায় তেমনি কিছু পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হলো।

 

খাবার আগে কাঁচা বায়েল ফল (Bael fruits) খেতে পারেন। অবশ্য পেয়ারা কিংবা কলা বাদে অন্য যে কোন ধরণের ফলই খাওয়ার আগে খেলে সেটা কন্সটিপেশন সমস্যা উপশমে সহায়ক হতে পারে। সুতরাং আপনার খাবারের তালিকায় দৈনিক ফল-ফলাদি রাখুন। সম্ভব হলে বিভিন্ন প্রকার ফল আর তা না হলে অন্তত দুই থেকে তিন প্রকারের ফল খাদ্য-তালিকায় রাখা হলে বেশ ভালো সুফল পাবেন।

 

প্রতিবার খাবারের পর পেঁপে খান। পেঁপের পেপেইন উপাদান একটি শক্তিশালী ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে এবং মলত্যাগকে স্বস্তিদায়ক করে।

অন্যদিকে আঙ্গুরও ল্যাক্সেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এ ফল আন্ত্রিক পেশিকে সাবলীল করার মাধ্যমে ক্রনিক কন্সটিপেশন সমস্যায় স্বস্তিদান করে। হাতের কাছে আঙ্গুর পাওয়া না গেলে এক্ষেত্রে কিশমিশকে একটি ভালো বিকল্প হিসেবে গণ্য করা যায়।

 

প্রতিদিন সকালে নাস্তার আগে কমলা খেতে পারেন। কিংবা কমলা না পেলে লেবু। তাছাড়া খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানামা অরেঞ্জ জুস কন্সটিপেশন সমস্যায় ভালো কার্যকর। এছাড়া খাওয়ার আগে স্রেফ এক গ্লাস গরম পানিও আপনার অন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।   

 

সাদা ভাতের বদলে হোল গ্রেইন ফুড এবং সিরিয়েল (যেমনঃ ওটমিল) খেতে পারেন। এগুলো প্রচুর ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় পেটের জন্য ভালো।

সপ্তাহে অন্তত তিনবার নিয়মিত ব্যায়াম করুন, এটি অন্ত্রের জন্য উপকারী। এমন না যে সে ব্যায়াম খুব কষ্টকর হতে হবে, প্রতিদিন সকালে আধাঘন্টা হাটা আপনার বাউল ম্যুভমেন্ট স্বাভাবিক করার জন্য দারুণ ফলপ্রসু।

 

কন্সটিপেশন হলে আরেকটি যে বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে, সেটা হলো - চাপমুক্ত থাকা। মানসিক চাপ কন্সটিপেশন সমস্যা জটিল করে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এমনো দেখা গেছে যে তারা যতই আঁশযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন না কেন, মানসিক চাপ কিংবা উদ্বেগের কারণে তারা কন্সটিপেশন থেকে মুক্ত হতে পারছেন না। হয়তো অনেকের ক্ষেত্রে কন্সটিপেশন সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণই হলো এই মানসিক চাপ।

 

আপনি যদি খাবারে ঝাল পছন্দ করে থাকেন, তবে রান্নার সময় সেটাতে ঝালের জন্য জিরা, ধনে , গোলমরিচ/ লাল মরিচ (কেইয়েন), ফেনেল বীজ ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। এই ঝাল আন্ত্রিক পেশির জন্য উপকারী। তাছাড়া সবুজ শাকসবজিও কন্সটিপেশন সমস্যা উপশমে ভালো কার্যকর। কোরকোরাস, আলুপাতা (পটেটো লিভস) এবং পালং শাকে পেটের জন্য উপকারি প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে। খাবারের সাথে এগুলো উপযুক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা হলে তা আপনার বাউল ম্যুভমেন্ট স্বাভাবিক করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান