আলসার উপশমে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি

যখন আপনার পরিপাক রস খাদ্যের শর্করা, স্নেহ কিংবা প্রোটিনের বদলে পাকস্থলি বা ডিওডেনামে ক্ষত তৈরি করা শুরু করে, তখন সেটাকে আলসার বলে। পাকস্থলির ক্ষতকে গ্যাস্ট্রিক আলসার আর ডিওডেনামে হলে সেটাকে ডিওডেনাল আলসার বলে। কারো যদি এ দু'টোই থেকে থাকে তবে ঐ ব্যক্তির পেপ্টিক আলসার হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।

 

আলসারের মেডিকেল ট্রিটমেন্ট এমনিতে যথেষ্ট ব্যয়বহুল হওয়ায় এবং তার কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থাকায় অনেকেই এর ঘরোয়া নিরাময়কে প্রাধান্য দেন। এম্নিতে দোকানের বিভিন্ন এন্টাসিড আলসার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। যেমন- বিসমাথ সাবসেলিসাইলেট সমৃদ্ধ Pepto-Bismol® আলসারের চিকিৎসায় কার্যকর। আবার যেসব এন্টাসিড ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সেগুলোও এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে, শুধু খেয়াল রাখতে হবে যাদের কিডনি সমস্যা আছে, তারা যেনো এ ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ ওষুধ গ্রহণ না করেন।

 

যদি আপনার কাছে দোকানের এন্টাসিডগুলোর স্বাদ খুব একটা ভালো না লাগে, তাহলে সায়িন পিপার ক্যাপসুল আপনার জন্য একটা ভালো বিকল্প হতে পারে। মিউকোসাল লাইনিং এর জন্য আরামদায়ক এই সায়িন পিপার ক্যাপসুল মূলত ইওরোপিয়ান দেশগুলোতে ব্যবহৃত হয়। এর থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে চাইলে এ ক্যাপসুল আপনাকে খাবারের সাথে গ্রহণ করতে হবে।

 

গবেষকেরা মনে করেন- আলসার উপশমে ডায়েটে কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে। এই যেমন কলার একটা প্রাকৃতিক এন্টাসিড এফেক্ট আছে। তাছাড়া মধুটাও বেশ উপকারী। স্বাদে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও গাজর আর কাঁচা বাঁধাকপি মিশিয়ে তৈরি করা জুস অনেকের মতে উপকারে বহু এগিয়ে।

 

কারো কারো মতে মেডিটেশন কিংবা ইয়োগার মত বিষয়গুলো আলসার উপশমে ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটা পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ মানসিক চাপই আলসারের একমাত্র কারণ নয়; তবে নিশ্চিতভাবেই এটা সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলার জন্য দায়ী। আসলে আলসার হওয়ার কিছু সাধারণ কারণগুলো হলো- ব্যাক্টিরিয়ার ইনফেকশন, অস্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এলকোহল আসক্তি এবং ইবুপ্রোফিন বা এসপিরিন জাতীয় NSAIDS ওষুধের ব্যবহার।

 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব ঘরোয়া পদ্ধতি বেশ ভালো কাজ করে। তারপরো যদি কারো বেলায় অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস, বুকে ব্যথা বা পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়ার মত উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায়, তবে দেরি না করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। মনে রাখতে হবে- যদি আলসার পরিস্থিতি জটিল হয়ে আরো মারাত্মক শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, তবে কিন্তু আর সেটাকে ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিরাময় করা সম্ভবপর হয়ে উঠবে না।   

 

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান