সিস্টিক একনি সমস্যা মোকাবেলায় কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি
সিস্টিক একনি বা ব্রণের জন্য ঘরোয়া বিভিন্ন নিরাময় আসলে একেকজনের জন্য একেকরকম ভাবে কাজ করে। সুতরাং, আপনি যদি সবগুলো পদ্ধতি সম্পর্কেই জেনে থাকেন, তাহলে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে হয়তো সুবিধা হবে; সেক্ষেত্রে যে পদ্ধতিটি আপনার জন্য ভালো কাজ করছে, আপনি সেটাই বাছাই করে নিলেন। এম্নিতে এ সিস্টিক ব্রণ মোকাবেলার কিছু সাধারণ পদ্ধতি হলো বেকিং সোডা, মধু এবং এসপিরিনের ব্যবহার। তাছাড়া কোনভাবেই আপনার ব্রণ টিপাটিপি করা যাবে না, এবং পেশাগত পরামর্শের প্রয়োজন হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।
আর সব ব্রণ সমস্যার থেকে সিস্টিক ব্রণ সমস্যাই সব থেকে বেশি মারাত্মক। তাই এর মোকাবেলা করাটাও কঠিন। কারো চামড়ায় যদি তরলযুক্ত গোটার মত (লাম্প) পরিলক্ষিত হয়, তবে তার সিস্টিক ব্রণ হয়েছে বলে গণ্য করা যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব সিস্ট স্পর্শ করলে ব্যথাবোধ হয় এবং তা দেখতে খুবই কদাকার। একটা বিষয় মনে রাখাটা খুব জরুরি, আর তা হলো- এসব সিস্টিক ব্রণ সমস্যা মোকাবেলায় ঘরোয়া পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলে, তার ফল পেতে আসলে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করা লাগতে পারে। সাধারণত সিস্টিক একনি সমস্যায় ডাক্তারের পরামর্শ বেশি কার্যকর কেননা এর নিরাময়ে বিভিন্ন রকমেরই মেডিকেল চিকিৎসা রয়েছে।
সিস্টিক একনির ঘরোয়া নিরাময়ে সম্ভবত সব থেকে প্রচলিত পদ্ধতিটি হলো বেকিং সোডা প্রয়োগ। এ বেকিং সোডা পানির সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন, তারপর সে পেস্ট সরাসরি আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার এ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। অনেকে আবার মিশ্রণে সামুদ্রিক লবণও যোগ করে নিতে বলেন।
মধু এবং এসপিরিনও সিস্টিক একনি মোকাবেলায় বেশ কার্যকর। পানির সাথে এসপিরিন গুড়ো করে মিশিয়ে সেটা আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন। সেটা ধুয়ে ফেলার পর ময়েশ্চারাইজার হিসেবে মুখে মধু মেখে নিন। মধুর এন্টি-ব্যাক্টিরিয়াল গুণের কারণে এটা ব্রণ মোকাবেলায় শক্তিশালি ভূমিকা রাখতে পারে।
সিস্টিক একনির ঘরোয়া চিকিৎসার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্রণ নিয়ে নাড়াচাড়া না করা। এসব ব্রণ টেপাটেপি করা হলে তা আপনার মুখে দাগ তৈরিসহ ব্যথা/জ্বলুনির মত অস্বস্তিকর অনুভূতির জন্ম দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার অতিরিক্ত ঘাম ত্বকে ব্রণ সমস্যা প্রকট করতে ভূমিকা রাখে। সেক্ষেত্রে একটা ভেজা, নরম কাপড় দিয়ে মুখ শুকনো রাখা হলে উপকার পাওয়া যায়।
এছাড়াও সিস্টিক একনি সমস্যা মোকাবেলায় এলোভেরার রস, লেবুর রস কিংবা ডিমের সাদা অংশ উপকারী। ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রোডাক্ট- যাতে তৈলাক্ত উপাদান বেশি থাকে, এমন কিছু ব্যবহার এড়িয়ে চলাটাই শ্রেয়; কেননা সেটা চামড়ার সুক্ষ্ম ছিদ্র বন্ধ করে দিয়ে সমস্যাকে আরো প্রকট করে তুলতে পারে। সব থেকে বড় কথা হলো- এসব সিস্টিক একনি মোকাবেলার ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো এখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত বা প্রমাণিত নয়, তাই যে কোন পেশাগত উপদেশের জন্য আসলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াটাই উচিত।
Comments
Post a Comment