গরমে ত্বকের যত্ন

 

বাংলাদেশে দিন দিন গরমকালে ভ্যাপসা গরমটা বেড়েই চলেছে। প্রচুর ঘাম আর তীব্র রোদ তো আছেই, মাঝে মাঝে এমন অবস্থা হয় যে দেখা যায় ঘর থেকেই হিট ওয়েভের কারণে বের হওয়া যায় না। খুব স্বাভাবিকভাবেই- এ গরম থেকে আমাদের ত্বকেও নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। চলুন জেনে নেই- সেটা কি রকম !

 

হিট র‍্যাশঃ

গরমে খুবই কমন একটা সমস্যার নাম হিট র‍্যাশ। অনেকেই এ দ্বারা আক্রান্ত হন। ঘামের নালিগুলো আটকে গেলে এ হিট রাশের সমস্যা দেখা দেয় সাধারণত। ঘাম শরীর থেকে বের হতে না পেরে তখন দেখা যায় ত্বকের নীচে আটকা পড়ে যাচ্ছে। সেটা থেকেই চুলকানি এবং র‍্যাশের মত নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এ হিট র‍্যাশ সাধারণত নিজে থেকেই চলে যায়, তবে সতর্কতার জন্য আক্রান্ত অবস্থায় ঢিলেঢালা কাপড় পরে চলাফেরা করুন।

 

প্রতিকারঃ

হিট র‍্যাশ সমস্যা প্রতিকারে আপনার চামড়া ভালো করে ঘষে পরিষ্কার রাখুন। এতে ঘাম নালিকাগুলি আবদ্ধ হয়ে পড়বে না। আর হিট র‍্যাশ দেখা দিলে দিনে দুই বা তিনবার আক্রান্ত স্থানে এলো ভেরা মন্ড(পাল্প) প্রয়োগ করতে পারেন। এটা চুলকানো এবং জ্বালাপোড়ার অনুভূতি দূর করতে ভালো উপকারী।

 

সান এলার্জিঃ

যাদের ত্বক একটু বেশি সংবেদনশীল/ সেনসিটিভ, তাঁদের জন্য সান এলার্জি একটা বড় সমস্যা। সত্যি কথা বলতে, এর দ্বারা আক্রান্ত হতে আপনাকে যে ঘরের বাইরে বের হতে হবে, এমনটাও নয়। কেননা এটি সূর্যরশ্মি কিংবা তাপের কারণেও হতে পারে। সান এলার্জি অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই দুই  থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কমে যাবার কথা।

 

প্রতিকারঃ

এটা থেকে প্রতিকার পাওয়ার সব থেকে সহজ উপায় হলো সূর্যরশ্মি এবং তাপ থেকে বেঁচে থাকা। দিনের বেলা এক্ষেত্রে আপনি এয়ার কন্ডিশন রুমের ভেতর থাকতে পারেন। আর যদি কোনভাবে আপনি এটা দ্বারা আক্রান্ত হয়েই পড়েন, তবে ঠান্ডা পানি এবং এলোভেরা জেল ব্যবহার এক্ষেত্রে ভালো উপকারী।

 

প্রিকলি হিট র‍্যাশঃ

 

এটাও গরমে আরেকটা বিরক্তিকর সমস্যা। মূলত পিঠ, বগল আর ঘাড়েই এ র‍্যাশ উঠতে দেখা যায়। সাথে চুলকানিও থাকতে পারে।

 

প্রতিকারঃ

প্রিকলি হিট র‍্যাশ থেকে দূরে থাকতে চাইলে হয় আপনাকে দিনের বেলাতে এয়ার কন্ডিশন রুমে থাকতে হবে, অথবা ঘন ঘন গোসল করে নিতে পারেন। আসল লক্ষ্য হলো শরীরটাকে ঠান্ডা রাখা। তাছাড়া উইচ হ্যাজেল বা এলোভেরার ব্যবহারও প্রিকলি হিট র‍্যাশ মোকাবেলা এবং তা কমিয়ে আনতে ভালো পদ্ধতি। এক্ষেত্রে অবশ্য ক্যালামিনও ব্যবহার করা যায়।

 

একনি সমস্যাঃ

সারা বছর ধরেই ব্রণ সমস্যা আপনাকে ভোগালেও গরমে হয়তো সেটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এর কারণটা হলো- অতিরিক্ত গরম, ঘাম আর ত্বক মাত্রাতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে যাওয়ায় সব মিলে মুখের ব্রণ সমস্যাকে আরো তীব্র করে তোলে। অবশ্য এটাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু ঘরোয়া নিরাময় রয়েছে।

 

প্রতিকারঃ

ব্রণ মোকাবেলায়  নিম এবং তুলসি মিলিয়ে একটা প্রাকৃতিক স্কিন টোনার তৈরি করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে ত্বককে শুধু তৈলাক্ত হয়ে যাওয়া থেকে বাধা প্রদান করাই নয় বরং ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টিরিয়াকেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ২০ টা তুলসি পাতা ও ২৫টা নিমপাতা দুই কাপ ফুটন্ত পানিতে যোগ করুন। এরপর সে পানিটুকু ফুটে অর্ধেক হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর পাতাগুলো ছেঁকে আলাদা করে বাকি পানিটুকু ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। দিনে দুই থেকে তিনবার এ পানি দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। এবং যদি ব্রণ সমস্যা এরই মধ্যে প্রকট আকার ধারণ করে থাকে, তবে হলুদ এবং চন্দনকাঠ জোগাড় করে রাখুন। এটা ব্রণ দূর করতে ভালো কাজের।

 

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান