চার্লি হর্স সমস্যা মোকাবেলায় কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি
সাধারণত পায়ের পেশিতে টান খাওয়াকে চার্লি হর্স বলা হয়ে থাকে। অবশ্য পা ছাড়াও দেহের অন্যান্য পেশিতেও এ চার্লি হর্স সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। গরম আবহাওয়া কিংবা ব্যায়ামই আসলে এ সমস্যার জন্য দায়ী। অনেক সময় রাতে ঘুমের মধ্যেও কারো কারো পেশি টান লাগার এ সমস্যা হতে পারে। তবে যেটাই হোক- এর মূল কারণ হলো ডি-হাইড্রেশন এবং শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি।
চার্লি হর্স সমস্যা এড়াতে ব্যায়াম শুরু করার আগে স্ট্রেচিং করে নেওয়া উচিত। তাছাড়া সারাদিনের কাজের শিডিউল এমনভাবে সাজিয়ে নেওয়া ভালো যেনো সেটা অতিরিক্ত খাটুনির না হয়ে যায়। ব্যায়ামের সময় পটাশিয়ামসমৃদ্ধ তরল খাবার এ পরিস্থিতির মোকাবেলায় ভালো কার্যকর। এছাড়া কলাও পটাশিয়ামের একটি ভালো উৎস হতে পারে।
চার্লি হর্স আক্রান্ত পেশির ব্যথা উপশমে এপসম লবণ মিশ্রিত গরম পানিতে আক্রান্ত অংশ ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে। বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট আক্রান্ত স্থানটুকু ডুবিয়ে রাখতে হবে। তাছাড়া স্রেফ পেশি মেসেজ করা হলেও ভালো ফল পাওয়া যায়, শুধু খেয়াল রাখতে হবে- আক্রান্ত পেশি বাদ দিয়ে তার চারপাশের অংশ যেনো মেসেজ করা না হয়। চার্লি হর্স আক্রান্ত পায়ের গোছা মেসেজ করার সময় পায়ের পেছনের অংশে হাটু থেকে নিয়ে পায়ের পাতা পর্যন্ত ঘষে / মেসেজ করে যেতে হবে।
যেহেতু ডি-হাইড্রেশন এবং পটাশিয়ামের ঘাটতি এ সমস্যার অন্যতম প্রধান দুই কারণ, তাই বেশি বেশি পানি পান ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া হলে চার্লি হর্স অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে। তাছাড়া পায়ের গোছায় টান লাগলে স্ট্রেচিং এর ব্যথা উপশমে বিরাট ভূমিকা রাখে।
তাছাড়া তিনটা ছোট লেবু, একটা ছোট আঙ্গুর এবং দু'টো ছোট কমলা কেটে একসাথে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন, (peels and all)। ঐ মিশ্রণে এক চা-চামচ টার্টার ক্রিম যোগ করে পুনরায় ব্লেন্ড করুন। এটা চার্লি হর্স সমস্যার জড়তা উপশমে ভালো ভূমিকা রাখে। দিনে দুইবার দুই টেবিল চামচ করে এ মিশ্রণ দুই টেবিল চামচ পানির সাথে খেতে হবে। সব থেকে ভালো হয় সকালে একবার আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একবার খেয়ে নিলে।
যদি ভিটামিন স্বল্পতার কারণে এ চার্লি হর্স সমস্যা দেখা দেয়, তবে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। ৪০০ IU ভিটামিন ই গ্রহণ এক্ষেত্রে ভালো কার্যকর।
Comments
Post a Comment