গ্যাস সমস্যা মোকাবেলায় কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি

 

গ্যাস হওয়া কিংবা পেটফাঁপা কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত গ্যাস বা ব্লটিং সমস্যা অনেকের জন্যই অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বেশিরভাগ সময়েই কিছু ঘরোয়া নিরাময়ের মাধ্যমে এর খানিক উপশমও সম্ভব। আপনি যদি একটু ভেবেচিন্তে আপনার ডায়েটটাকে (খাদ্যাভ্যাস) নির্বাচন করতে পারেন, তবে সেটাই গ্যাস সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রে কিছু কিছু হার্ব (গুল্ম) এবং বিভিন্ন খাদ্য উপাদানও এর উপশমে কার্যকর। শরীরচর্চা কিংবা দৈনিক বায়ু গ্রহণের পরিমাণ কমানোর মাধ্যমেও এ সমস্যার মোকাবেলা করা যায় বলে অনেকে মনে করেন।

 

বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী আপনার দৈনিক খাদ্যতালিকা একটু সুচিন্তিত উপায়ে পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্যাস সমস্যা অনেকখানিই কমিয়ে আনা সম্ভব। কিছু কিছু খাবার তুলনামূলক বেশি গ্যাস তৈরির জন্য দায়ী। সিমের বিচি, চর্বিযুক্ত খাদ্য (ফ্যাটি ফুড), কার্বনেটেড বেভারেজ এবং আশযুক্ত নানা খাবার গ্যাস ফর্ম করে বেশি। যদিও একেক খাবার ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জন্য গ্যাস ফর্ম করার ক্ষেত্রে একেক রকম ভূমিকা রাখে, তারপরো আসলে গ্যাস সমস্যার ভুক্তভোগীদের একটা খাদ্যতালিকার রেকর্ড রাখা উচিত। যেসব খাবার তাদের গ্যাস সমস্যাকে উসকে দিতে ভূমিকা রাখে, সেসব খাবার এ ভুক্তভোগীগণ তাদের ডায়রিতে টুকে রাখতে পারেন; ভবিষ্যতে টুকে রাখা খাবারগুলো সব এড়িয়ে চললেন।

 

দুধের তৈরি বিভিন্ন খাবারও অনেক সময় গ্যাস সমস্যাকে উসকে দিতে পারে। ব্যতিক্রম শুধু বিভিন্ন রকম দই। যেহেতু এ খাবারটি খাদ্য পরিপাকে সহায়তাকারী ব্যাকটিরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, তাই এটি গ্যাস সমস্যা উপশমে ঘরোয়াভাবে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া সারাদিনে অল্প অল্প করে খাওয়া হলেও গ্যাস সমস্যা কমে আসতে পারে। এরকম অল্প অল্প করে খাদ্যগ্রহণ খাদ্য পরিপাক সহজতর করে গ্যাস সমস্যা উপশমে ভূমিকা রাখে।

 

গ্যাস সমস্যা হওয়ার জন্য - আপনি কিভাবে খাচ্ছেন- সে বিষয়টাও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী হতে পারে। দ্রুত খাদ্যগ্রহণ অতিরিক্ত বাতাস গ্রহণের পেছনে দায়ী, যেটার ফলশ্রুতিতে গ্যাসের সমস্যা সহ অন্যান্য পরিপাক সংশ্লিষ্ট জটিলতার তৈরি হয়। এছাড়া সিগারেট, চুইং গাম এবং মানানসই ডেনটিউর ব্যবহার না করা হলে সেটাও অতিরিক্ত বাতাস গ্রহণের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

 

কেউ কেউ মনে করেন, কিছু হার্ব (গুল্ম) গ্যাস সমস্যা মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারে। এগুলোকে খাবার, চায়ের সাথে বা স্রেফ খালি খালি চুষে খাওয়া যায়। পেপারমিন্ট এরকমই এক ধরণের হার্ব। আপনি এটাকে চায়ের সাথে খেলে যেমন উপকার পাবেন, তেমনি পেপারমিন্ট ক্যান্ডিও মোটামুটি একই রকম কার্যকর। তাছাড়া ফেনেল, কেওড়া বা মৌরিও গ্যাস সমস্যার ঘরোয়া নিরাময় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

 

ব্যয়াম পরিপাকে সহায়তা করে, ফলে নিয়মিত শারীরিক ব্যয়ামও গ্যাস সমস্যা নিরসনে ভূমিকা রাখে। এর ঘরোয়া উপশম হিসেবে অবশ্য কিছু নির্দিষ্ট ব্যয়ামের কথাও বলা হয়। যদিও এসব ব্যয়াম গ্যাস প্রতিরোধে খুব একটা কার্যকর নয়, তবে তা গ্যাসের ব্যথা কিংবা পেটফাপার (ব্লটিং) অস্বস্তি দূর করতে ভালো সহায়ক। এরকম একটা ব্যয়ামের উদাহরণ হতে পারে- সোজাসুজি বা কাত হয়ে শুয়ে হাটু বাকিয়ে বুকের কাছে নিয়ে আসা।

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান