কর্মদিবসের শেষ ঘন্টাটি সফলতার সাথে কেমন করে কাটাবেন

যারা চাকরি করেন, বৃহস্পতিবারের বিকেলটা তাদের কাছে অন্যরকম। পরেরদিন ছুটি বলে মনটাও বেশ ফুরফুরে থাকে। তবে এদিন অনেকে অদ্ভুত একটা সমস্যায় পড়তে পারেন, সেটা হলো- শেষের দিকের সময়টা কিভাবে কাটাবেন- তা আর ভেবে পান না। হয়তো ৬টা সময় অফিস শেষ, এরই মধ্যে পাচটা বেজে গেছে, কিন্তু বাকি এক ঘন্টা কাটানোর মত কোন কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না। এ লেখায় তেমনই কিছু কাজের কথা উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়েছে- যেটা কি না একই সাথে আপনার সময় কাটানোর পাশাপাশি প্রোডাক্টিভ কিছুও হতে পারে।

১. আপনার ই-মেইল ইনবক্সটা সাজিয়ে নিন

ইনবক্সটাকে একটু গুছিয়ে রাখা হলে কাজের ই-মেইল খুঁজে নিতে সুবিধা হয়, আজেবাজে মেইলের উৎপাত থেকেও বেঁচে থাকা যায়। সব থেকে বড় কথা হলো- এ কাজে আপনাকে অতটা মনোযোগী না হলেও চলে। তাই সেই এক ঘন্টায় ইনবক্সটাকে একটু সাজিয়ে নিতে পারেন। নীচে এর জন্য কিছু টিপস উল্লেখ করা হলো-

*যেসব নিউজলেটার আপনি কখনো পড়েন না, সেগুলো থেকে আন-সাবস্ক্রাইব করুন

*বিভিন্ন ধরণের ই-মেইলের জন্য বিভিন্ন ফোল্ডার/লেবেল তৈরি করতে পারেন। যেমনঃ বিভিন্ন প্রজেক্টের জন্য বিভিন্ন লেবেল, বা প্রেরকের উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা লেবেল ইত্যাদি।

*আগের মেসেজগুলো ডিলিট করুন বা আর্কাইভে সংরক্ষণ করুন।

*যেসব ই-মেইল বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে মার্ক করে রাখুন।

২. পরবর্তী বড় প্রজেক্টটার ব্যাপারে ভেবে রাখুন

হয়তো খুব তাড়াতাড়িই আপনি বড় কোন প্রজেক্ট শুরু করতে যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের মত কাজ হয়- যদি আপনি ঐ প্রজেক্টের ব্যাপারে আগে থেকেই একটু ভেবে রাখেন। এতে পরবর্তীতে আপনি আরো গোছানো উপায়ে এবং আরো প্রস্তুত হয়ে কাজটা করতে পারবেন। সময় কাটানোর জন্য প্রজেক্টের ব্যাপারে অল্প-স্বল্প রিসার্চ/ খোজখবর এক্ষেত্রে ভালো একটা বিকল্প হতে পারে।

৩. আপ-টু-ডেট থাকুন, আপ-টু-ডেট রাখুন

শুধুমাত্র গৎবাধা কাজ কিংবা প্রজেক্ট প্ল্যানিং করাটাই পেশাদারী আচরণ হতে পারে না। সাথে সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক এবং চিন্তাগত উন্নয়নটাও জরুরি; এতে নিজের চিন্তাগত নেতৃত্বেরও একটা অবস্থান তৈরি হবে আপনার। এক্ষেত্রে যেটা করতে পারেন, সেটা হলো আপনার ফিল্ডের ব্যাপারে নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ইত্যাদি উন্নতির চেষ্টা করুন। সংশ্লিষ্ট যে কোন খবর বা সাম্প্রতিক তথ্য লিংকড ইন জাতীয় সাইটগুলোতে সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। হতে পারে আলোচনা। এতে সময়টাও ভালো কাটবে।

৪. নিজের ডেস্ক জঞ্জাল মুক্ত করুন

বলাই বাহুল্য- কাজটা খুবই সরল। শুধু নিজের টেবিল গুছানো, অপ্রয়োজনীয় কাগজ ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়া, জরুরি কাগজ ফাইলবন্দী করা, অপরিষ্কার কফি-মগটাকে পরিষ্কার করে নেওয়া- ইত্যাদির মাধ্যমেই আপনি ভালো সময় কাটাতে পারেন। কেননা একটু গোছানো থাকলে তা আপনার প্রোডাক্টিভিটির ওপরও ভালো প্রভাব ফেলার কথা।

৫. পরবর্তী সপ্তাহের জন্য শিডিউল/রুটিন ঠিক করুন

যে কোন কাজ সফলভাবে এবং পেশাদারিত্বের সাথে করার উপায় হলো- কাজটার ব্যাপারে আগে থেকেই একটা রুটিন বা নিয়ম তৈরি করে নেওয়া। এটা একদিকে আপনার সময় যেমন কাটাবে, অন্যদিকে আপনার মনোবলও বাড়িয়ে দেবে। এতে আপনার কাজটাও হয়ে উঠবে সফল আর গোছানো।

নীচের তিনটি ধাপে আপনি পরবর্তী সপ্তাহের জন্য একটা রুটিন করে নিতে পারেনঃ

১. আসছে সপ্তাহে কি কি করতে হবে- তার তালিকা তৈরি করুন

২. কাজগুলোর মধ্যে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ , কোনটি কম গুরুত্বপূর্ণ তা চিহ্নিত করুন। বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট অর্জনযোগ্য লক্ষ্যে ভাগ করে নিন।

৩. একটা বাস্তব টাইম-টেবিল তৈরি করুন যেনো যথাসময়ে কাজগুলো শেষ করতে পারেন।

এভাবে যখন আপনার জটিল কোন কাজ হাতে নিতে ইচ্ছে করছে না, তখন আপাতদৃষ্টিতে এ সহজ এবং ছোটখাট কাজগুলো করার মাধ্যমে আপনি আপনার সময়টাকে কার্যকর উপায়ে ব্যবহার করতে পারেন।

 

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান