নাকের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার উপায়
নাকের লোম দূর করতে আপনি বিভিন্ন পদ্ধতিই প্রয়োগ করতে পারেন। এর মধ্যে কয়েকটি হলো- ট্যুইজিং, ওয়াক্সিং অথবা ডেপিলেটরি(লোমনাশক) ক্রিম ব্যবহার। জেনেটিক কিংবা হরমোনাল ভারসাম্যহীনতার কারণে পুরুষ কিংবা নারী- উভয় ক্ষেত্রেই নাকের ওপর লোম উঠার সমস্যা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়- ভুরুর ঘন লোম নাকের ওপর যেখানে মেশে সেটা পার হয়েও নীচের দিকে আরো কিছুদূর নেমে আসে। ফলশ্রুতিতে নাকের ওপর লোম হয়েছে বলে প্রতীয়মাণ হয়। তাছাড়া শেভ করেও নাকের লোম দূর করা যায়, তবে এক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে যেনো শেভ করতে গিয়ে আবার ভুরুর অংশবিশেষ না উঠে যায়। অন্য কোন উপায়ে নাকের লোম তুলে ফেলা না গেলে সেসব ক্ষেত্রে ব্লিচিংও ব্যবহৃত হতে পারে।
ভুরুর জন্য যে ধরণের ওয়াক্স স্ট্রিপ ব্যবহৃত হয়, সেগুলো ব্যবহারে নাকের হেয়ার প্যাচ (গুচ্ছ গুচ্ছ লোম) তুলে ফেলা যায়। এগুলো মূলত কোল্ড ওয়াক্স স্ট্রিপ; অন্যদিকে সেলুনে ব্যবহৃত হয় লিক্যুইড হট ওয়াক্স। এভাবে কম খরচে বাসাতেই কোল্ড ওয়াক্সিং করে নাকের লোম তুলে ফেলা যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে ওয়াক্স যেনো আপনার ত্বকের লোমের একেবারে আগা পর্যন্ত ভালোমত পৌছাতে পারে। এটা নিশ্চিত করতেই বিশেষজ্ঞগণ পরামর্শ দেন ওয়াক্সিং এর আগে মুখ ভালোমত ধুয়ে নিতে, যেনো সেখানে অতিরিক্ত কোন তেল না থাকে। এছাড়া যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের একটু ভেবে চিন্তে ওয়াক্সিং করা উচিত। কেননা সংবেদনশীল ত্বকে এটা মাইল্ড এবরেশন অথবা ব্রোকেন ক্যাপিলারির কারণ হতে পারে।
নাকের লোম প্লাক করে উঠিয়ে ফেলাটা আরেকটা বিকল্প, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় সে লোম আবার হালকাভাবে ফিরে আসছে। টুইজিং এর একটা অসুবিধা হলো- আপনার যদি উন্নতমানের টুইজার না থাকে, সেক্ষেত্রে নাকের লোম টেনে ওঠাতে বেশ বেগ পেতে হয়। তাছাড়া নাক যেহেতু বেশ সংবেদনশীল একটা জায়গা, সে হিসেবে এরকম প্রচুর লোম ওঠানোর কাজটায় বেশ ব্যথা হতে পারে। যদিও এ টুইজিং অন্যতম প্রচলিত এবং সহজ একটা পদ্ধতি, তথাপি এটা কিন্তু সাময়িক একটা সমাধান।
চুলের ফলিকলে প্রোটিন সরবরাহে বাধা প্রদানের মাধ্যমে ডেপিলেটরি (লোমনাশক) লোশন নাকের লোম দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। দুই/ তিন মিনিটের জন্য এ ক্রিম মুখে মেখে অপেক্ষা করুন। তারপর সেটা ধুয়ে ফেলা হলে নাকের লোমও দূর হয়ে যাবে। নাকের লোম দূর করার এ পদ্ধতি শেভিং, ওয়াক্সিং বা টুইজিং এর চেয়ে তুলনামূলক বেশি স্থায়ী। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মূলত ফেসিয়াল ডেপিলেটরি লোশন ব্যবহার করতে পরামর্শ দেন; কারণ বডি ডেপিলেটরি ক্রিম যেগুলো আছে, সেগুলো একটু বেশিই কড়া এবং ত্বকে জ্বলুনি পর্যন্ত সৃষ্টি করতে পারে।
Comments
Post a Comment