যেভাবে অন্যের বিরক্তির কারণ না হয়ে নিজের মতামতটুকু প্রকাশ করবেনঃএকজন সফল ব্যক্তির কৌশল

 

আসলে কখন, কোথায়, কার সামনে কি বলা উচিত আর কি বলা উচিত না- সেটা আপেক্ষিক। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মাঝ দিয়ে আমি একটা জিনিস শিখেছি- আর তা হলো আমাদের প্রত্যকেরই হয়তো আচরণের একটা গ্রহণযোগ্য সীমা আছে। যখনি আমরা কেউ সীমার বাইরে চলে যাই, তখনি আসলে সমস্যা শুরু হয়।

আসলে আমাদের এই আচরণের গ্রহণযোগ্য সীমা কেমন হবে- সেটা অনেক কিছুর ওপরই নির্ভর করে। তাই এটা আসলে স্থায়ী বা নির্দিষ্ট কিছু নয়। এই সীমা পরিস্থিতির কারণে বাড়তে পারে, কমতেও পারে। তবে যে জিনিসটা নিশ্চিতিভাবেই এ সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হচ্ছে আপনার ক্ষমতা।এ ক্ষমতারও আবার নানান রকমের প্রকারভেদ হয়। তবে ক্ষমতা যেমনই হোক না কেন, সেটা আপনার হাতে থাকার অর্থই হলো- আপনার আচরণের গ্রহণযোগ্যতার সীমা বেড়ে যাওয়া।আর ক্ষমতা যখন কমবে তখন আপনার সীমাও কমে যাবে। এরকম কমতে কমতে এমন একটা অবস্থা তৈরি হতে পারে- যখন কি না আপনি কথা না বললে উপেক্ষিত থেকে যাবেন,কিন্তু আবার কথা বললেও শাস্তি পাবেন; একরকম উভয় সংকট বলা যায়। ইংরেজিতে এর নাম হলো "লো পাওয়ার ডাবল বাইন্ড"

যাই হোক- আপনি যদি নিজেকে একজন ক্ষমতাশালী বলে মনে করেন, সেটা আপনার দৃঢ়তা বাড়াতে সহায়তা করে। একই সাথে তা আপনার গ্রহণযোগ্যতার সীমাও বাড়িয়ে তোলে। আবার অন্যরা যদি আপনাকে ক্ষমতাশালী ভাবে, সেক্ষেত্রে সেটাও আপনার সীমা বাড়াতে সহায়ক।

এখানে আমি আপনাদের সীমা বাড়াতে কিছু পদ্ধতির কথা উল্লেখ করতে পারি। প্রথমেই একটা পদ্ধতির কথা বলা যাক, যেটার মাধ্যমে আপনি নিজের মতামত রাখতে পারবেন দৃঢ়তার সাথে।আর তা হলো- অন্যের পক্ষ হয়ে কথা বলা। যখন আমরা অন্যের পক্ষ হয়ে কথা বলি, তখন সেটা আমাদের মনোভাব, আমাদের চিন্তাভাবনা, মোদ্দাকথা নিজেদের আরো ভালোমত বুঝতে সহায়তা করে; আর এতে নিজেদের মতামত রাখাটাও সহজ হয়।

দ্বিতীয় পদ্ধতিটা হলো- দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে কথা বলা। একটা কথা বলার আগে আপনি যদি অন্য পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গিটা আমলে নেন, তাহলে সেটা আপনার আচরণের গ্রহণযোগ্যতার সীমা বাড়াতে সহায়তা করবে।বিপরীত দিকের মানুষটি কিভাবে চিন্তা করছে,এটা বুঝতে পারলে কথা বলার কাজটা সহজ হয়ে যায়। কারণ তখন আমরা বুঝতে পারি-আসলেই অন্যরা কি চাইছে!বিপরীত দিক থেকে অন্যরাও তখন আপনার প্রয়োজনটা ভালো বুঝতে পারবেন।

তৃতীয় পদ্ধতিটি হলো বিকল্প রাখা বিষয়ক।আপনি যদি নিজের অবস্থানে দৃঢ় না হয়ে থেকে বরং অপর পক্ষকে বিকল্প দেখাতে পারেন, তো আপনার আচরণের গ্রহণযোগ্যতার সীমা বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ ধরুণ আপনি একটা গাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন। এখন বিক্রির সময় আপনি যদি ক্রেতাদের সামনে কয়েকটা বিকল্প দেন, যেমনঃ দাম ১২ লাখ সাথে পাঁচ বছর ওয়ারেন্টি কিংবা দাম দশ লাখ এবং ওয়ারেন্টি তিন বছরের। তাহলে গবেষণায় দেখা গেছে- বিকল্প দেওয়া হলে সাধারণত ক্রেতারা তুলনামূলক সহজে আপনার প্রস্তাবে রাজি হবে।বলা বাহুল্য-জিনিসটা শুধু গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে না, বরং সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

চতুর্থত আপনি আপনার পক্ষে সমর্থন জোগাড় করুন,এতে কোথাও মতামত রাখাটা আপনার পক্ষে সহজ হবে।আর এ সমর্থন যোগানোর একটা সহজ উপায় হলো বন্ধু এবং শুভাকাংখী বাড়ানো। উদাহরণস্বরূপ প্রথমে বলা পদ্ধতিটার কথাই স্মরণ করুন।এভাবে অন্যের সমর্থনে কথা বলে আপনি আপনার বন্ধু/শুভাকাংখী বাড়িয়ে নিতে পারেন।তাছাড়া নিজের সমর্থন বাড়ানোর আরেকটা উপায় হলো-বয়সে বড় এবং উপরের লেভেলের লোকদের কাছ থেকে উপদেশ চাওয়া।এতে আমাদের বিনয় যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি তারাও একরকমের আত্মপ্রসাদ লাভ করে।ফলে বেড়ে যায় আমাদের শুভাকাংখীর সংখ্যা।

শেষ পদ্ধতিটা হলো নিজের প্যাশন বা আগ্রহের জায়গাটাকে কাজে লাগানো।আমরা যখন কোন একটা বিষয়ে অভিজ্ঞ এবং জ্ঞানী হয়ে থাকি, তখন কথা বলার সময় এম্নিতেই একটা দৃঢ়তা আর সাহস এসে পড়ে।আর এরকম জ্ঞানী বা অভিজ্ঞ হিসেবে কথা বলা যায় তখনই, যখন কি না আপনি নিজের প্যাশন নিয়ে কথা বলছেন।তাই মুখ ফুটে নিজের কথাটা বলতে পারার ক্ষেত্রে প্যাশনটাকে কাজে লাগান।

উপরে বর্ণিত পদ্ধতিগুলো কাজে লাগিয়ে যে কোন মানুষ চাইলে তাঁর নিজের গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারেন। এতে আশা করা যায়-অন্যেরা তাঁর কথাকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করবে এবং একই সাথে তিনি নিজের মতামতটুকুও রাখতে পারলেন।            

 

 

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান