ফেইস ড্যানড্রাফ সমস্যা মোকাবেলায় করণীয়
ফেইস ড্যানড্রাফ বিষয়টাই খুব বিরক্তিকর। আরো বাজে ব্যাপারটা হচ্ছে- সত্যি বলতে এ সমস্যার কোন নিশ্চিত নিরাময় বা উপশম নেই, বরং একটা নিরবিচ্ছিন্ন যত্নের ওপর থাকা লাগে সর্বদা। এ সম্পর্কে আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধব, পরিবার কিংবা ডাক্তারকেও জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। এম্নিতে আক্রান্ত স্থানে এন্টি- ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে, শুধু সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে যেমন- চোখ, নাক কিংবা মুখের চারপাশে এর প্রয়োগের সময় সাবধান থাকবেন। ত্বকে নিয়মিত একটা আর্দ্রতা বজায় রাখাটাই হলো এসব খুশকি দূর করার সব থেকে কার্যকর পদ্ধতি।
আগেও যেমনটা বলা হয়েছে- আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিবারের মানুষজনকে ফেইস ড্যানড্রাফ সমস্যা মোকাবেলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। প্রায়ই দেখা যায় যে এসব সমস্যা বংশগত হয়, তাই বিষয়টা এমন হওয়া স্বাভাবিক যে আপনার পরিবারেরই কেউ হয়তো ইতিমধ্যে এ সমস্যা মোকাবেলায় প্রচেষ্টা চালিয়েছে। যদি আপনার পরিবারে আপনিই একমাত্র/ প্রথম ব্যক্তি হয়ে থাকেন, যে কি না ফেইস ড্যানড্রাফ সমস্যা আক্রান্ত, তাহলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আসলে যে কোন মেডিকেল সমস্যাতেই ডাক্তারের সাথে কথা বলে নেওয়াটা শ্রেয়, কারণ হয়তো আপনার সমস্যাটি আরো জটিল কোন শারীরিক অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
আপনার ফেইস ড্যানড্রাফ দূর করার প্রাথমিক ধাপটাই হচ্ছে মুখ থেকে শুষ্ক চামড়াগুলো পরিষ্কার করা। এটা করার সব থেকে ভালো উপায়টা হলো- খুশকি/ মৃত চামড়া দূরীকারক ফেইস ওয়াশ ব্যবহার। এর মাধ্যমে খুব সতর্কতা আর যত্নের সাথে আপনার মুখের মৃত চামড়াগুলোকে সরিয়ে পরিষ্কার করে নিন। চোখের পাতা বা পাপড়ি কিংবা মোছের মত সংবেদনশীল জায়গা খুশকি আক্রান্ত হলে ফেইস ওয়াশ প্রয়োগের সময় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করুন; চোখ আর মুখ দু'টোই বন্ধ রাখুন। আপনি এ খুশকি/ শুষ্ক চামড়া দূর করার কাজটি সফট কোন টুথব্রাশের সাহায্যেও করতে পারেন।
ফেইস ড্যানড্রাফ আক্রান্ত জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখাটাও জরুরি। এক্ষেত্রে চোখের চারপাশের ত্বকের মত সংবেদনশীল চামড়ার জন্য বেবি শ্যাম্পু একটি ভালো বিকল্প হত পারে। বাজারের বেশিরভাগ এন্টি- ড্যানড্রাফ শ্যাম্পুই মুখের খুশকি দূর করার জন্যও ব্যবহার করা যায়। তবে হতাশার কথা হলো- এসব জিনিস ব্যবহারে আসলে আপনি সাময়িক একটা ফলই শুধু পাবেন। শ্যাম্পু ব্যবহার থামিয়ে দেওয়া মাত্র খুশকিও ফিরে আসবে আবার।
ফেইস ড্যানড্রাফ দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায়ও অবশ্যি আছে ! টি ট্রি অয়েল এক্ষেত্রে তার এন্টি-ফাঙ্গাল গুণের কারণে ভালো কার্যকর। এটাকে সহজেই লোশন/ শ্যাম্পুর সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। কোনফ্লাওয়ার এবং রেড ক্লোভারের নির্যাসও অল্প একটু ফোটায় আক্রান্ত স্থানে সরাসরি প্রয়োগের মাধ্যমে খুশকি দূর করতে ব্যবহৃত হচ্ছে ইদানীং। অনেকে আবার ভিনেগারও ব্যবহার করে থাকেন। ধারণা করা হয় এটি ত্বক এবং চুলের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে।
আক্রান্ত স্থান পরিষ্কারের পর সেখানকার আর্দ্রতা বজায় রাখতে সচেষ্ট হউন। তবে যে কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে সেটার উপযুক্ততা পরীক্ষা করে নিন, অর্থাৎ খেয়াল রাখুন যেনো কোনভাবেই তা আপনার সংবেদনশীল ত্বকের জন্য বিপদজনক না হয়। এলোভেরা এবং কোকোয়া বাটারের লোশনগুলো সাধারণত সংবেদনশীল ত্বকের জন্য উপযুক্ত কেননা তারা কৃত্রিম কেমিকেল এর বদলে প্রাকৃতিক সব উপাদান ধারণ করে।
Comments
Post a Comment