ডার্ক সার্কেল মোকাবেলায় দশটি ঘরোয়া পদ্ধতি
দ্রুত ডার্ক সার্কেল মোকাবেলায় উপায় খুজছেন? চিন্তা নেই- এ লেখায় এমনই কিছু অসাধারণ ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যার উপাদানগুলো কি না আপনি একেবারে হাতের নাগালেই পাবেন। নীচে
এমনই ১০ টি উপায়ের কথা বলা হলো- যেগুলো অনুসরণের মাধ্যমে আপনার চোখের চারপাশের কালো দাগ দূর করার পাশাপাশি চোখের ফোলাভাব কমিয়ে এনে আপনার চেহারাকে আরো আকর্ষনীয় এবং যৌবনদীপ্ত
করে তোলা সম্ভব।
১. টমেটো পেস্টঃ
এক চা-চামচ টমেটোর রস, আধা চা-চামচ লেবুর রস, অল্প একটু হলুদ গুড়ো, এবং সামান্য গ্রামফ্লাওয়ার মিশিয়ে তৈরি পেস্টটি আপনার চোখের চারপাশের কালো দাগ দূর করতে বেশ ভালো কার্যকর। সরাসরি এটাকে
চোখের চারপাশে প্রয়োগ করে দশ মিনিটের জন্য রেখে দিন। নির্ধারিত সময় পর সুন্দরভাবে পেস্টটা ধুয়ে ফেলুন।
২. শসা বা আলুঃ
আলু কিংবা শসার যে কোন একটি চোখের চারপাশে প্রয়োগ করার মাধ্যমে আপনি বেশ উপকার পেতে পারেন, কেননা এরা ফোলা এবং দাগ কমাতে বেশ কার্যকর গুণাগুণ সমৃদ্ধ। শসার টুকরো বা কুচি কুচি করে কাটা
আলু অথবা এদের রস তুলার সাহায্যে আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন। এম্নিতে এদের যে কোন একটিকে ঘুমানোর আগে ত্বকের নির্ধারিত স্থানে প্রয়োগ করাটাই ভালো, যেনো সারারাত সেটা ত্বকে থেকে যেতে পারে। যেহেতু
টুকরো শসা বা আলু এভাবে ব্যবহার করাটা অসুবিধাজনক, তাই আসলে এদের রসটা ব্যবহার করাই শ্রেয়।
৩. টি ব্যাগঃ
চা পাতার একটি উপাদান ত্বককে যৌবনদীপ্ত দেখাতে সহায়তা করে। আপনার চোখের ডার্ক সার্কেল সমস্যায় ঠান্ডা বা গরম টি ব্যাগ চোখের ওপর কয়েক মিনিটের জন্য রেখে দিলেও ভালো উপকার পাবেন।
৪. এলমন্ড অয়েলঃ
এলমন্ড অয়েল অতীতকাল থেকেই চোখের কালো দাগ (আই সার্কেল) দূর করতে উল্লেখযোগ্য ভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে আক্রান্ত স্থানে হালকাভাবে এ তেল মেখে শুয়ে পড়ুন, ভালো ফল পেতে
পারেন।
৫. ঠান্ডা কোন পদার্থঃ
আসলে যে কোন ঠান্ডা জিনিসই আপনার চোখের ত্বকের ফোলাভাব বা কালো দাগ দূর করতে ভালো ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে আপনি ঠান্ডা কাপড়, ঠান্ডা চামচ বা পানি- যেটাই ব্যবহার করুন না কেন- ডার্ক সার্কেল বা
চোখের চারপাশের কালো দাগ দূর করতে এরা সবাই বেশ কার্যকর।
৬. ঘুমঃ
প্রতি রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমানোর সময় মাথা উচু রাখুন এবং উপুড় হয়ে মুখ ঢেকে ঘুমাবেন না। এভাবে ঘুমালে আপনার মাথার চাপে ত্বকের কালো দাগসহ আরো নানা জাতীয় চামড়ার সমস্যা
হতে পারে।
৭. পুদিনাঃ
যদি আপনার বাড়ির আশপাশ কোথাও থেকে পুদিনা পাতা সংগ্রহ করতে পারেন, তবে সেটাকে পিষে চোখের চারপাশে কয়েক মিনিটের জন্য ব্যবহার করা হলে খুব ভালো ফল পাবেন। কেননা এ পুদিনা কালো দাগ দূর
করায় খুবই কার্যকর।
৮. কনসিলারঃ
আই সার্কেল মোকাবেলার সব থেকে দ্রুততম পদ্ধতি হলো কনসিলার ব্যবহার। তবে খেয়াল রাখতে হবে- সে কনসিলার যেনো আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর কিছু না হয়, বরং আপনার ত্বকের প্রকৃতির সাথে ম্যাচ করে
এবং যেনো হয় নন-কমেডোজেনিক।
৯.পানিঃ
প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এটা রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে আপনার চোখের ফোলাভাব ও দাগ দু'টোই কমাতে সহায়তা করতে পারে।
১০. ক্রিমঃ
ডার্ক আন্ডার আই সার্কেল ক্রিমও ব্যবহার করতে পারেন। এসব ক্রিমের বিভিন্ন উপাদান ত্বককে আর্দ্র, সুন্দর ও লাবণ্যময় কোমল করে তোলে। আর এটাই আই সার্কেল মোকাবেলার সব থেকে কার্যকরী ও দীর্ঘস্থায়ী
উপায়।
এমন না যে উপরে উল্লেখ করা সবগুলো পদ্ধতিই আপনার ডার্ক সার্কেল মোকাবেলায় কাজ করবে। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো- পরীক্ষা করে করে দেখা যে কোন উপায়টি আপনার জন্য ভালো কাজ করে। আশা করা
যায়- অল্প সময়ের মাঝেই আপনার চোখের চারপাশের কালো দাগ দূর হয়ে গিয়ে ফিরে আসবে ত্বকের পুরনো সৌন্দর্য।
Comments
Post a Comment