চোখের নীচের কালো দাগ দূর করার কার্যকর উপায়
চোখের নীচের কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল দূর করার একটা তাৎক্ষণিক উপায় হলো ফার্মাসিউটিকাল কনসিলার ব্যবহার। বিভিন্ন শেড এবং টেক্সচারের এসব কনসিলার সে সমস্যার সাময়িক সমাধাণ করলেও কনসিলারের প্রভাব চলে যাওয়া মাত্র আবার সেসব কালো দাগ ফিরে ফিরে আসে; নষ্ট করে আপনার দু'চোখের সৌন্দর্য। সেক্ষেত্রে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আপনি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির ব্যবহার করতে পারেন।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা কিংবা বিভিন্ন রাসায়নিক প্রোডাক্ট এসব কালো দাগ মোকাবিলায় ভালো বিকল্প; কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। হতে পারে সেটা আক্রান্ত স্থানে রক্ত চলাচলের অস্বাভাবিকতার কারণে কিংবা পিগমেন্টেশন সমস্যার দরুণ। ইনটেন্স পালসড লাইট থেরাপি বা কেমিক্যাল পিলের মত গুরুতর পদক্ষেপ গ্রহণ করা লাগতে পারে এসব ক্ষেত্রে।
তবে যেটাই হোক- এসব জটিল সমাধাণে যাবার আগে আপনি নীচের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করে দেখতে পারেন-
১. ঠান্ডা টি-ব্যাগঃ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোখের নীচের কালো দাগ দূরীকরণে চা জাতীয় হার্ব ব্যবহার করতে বলা হয়। ব্যাগের শীতলতা চোখের ফুলো ভাব কমাতে এবং রক্ত চলাচলে সহযোগিতা করে। তাছাড়া এর এন্টি-অক্সিডেন্টও চামড়ার জন্য উপকারী।
২. শসাঃ কুচি কুচি করে কাটা শসা বা শসার পেস্ট ডার্ক সার্কেল সমস্যায় উপকারী। কেউ কেউ আবার পেস্টে লেবুর জুস যোগ করার কথা বলে থাকেন, যদিও অনেকের মতে আবার সেটা কি না ক্ষতিকর !
৩. প্রচুর পানি পানঃ এটাই সম্ভবত ডার্ক সার্কেল সমস্যা মোকাবিলায় সব থেকে ভালো পদক্ষেপ। দিনে অন্তত আট গ্লাস পানি পান করুন এবং সময়ের সাথে সাথে পানি পানের পরিমাণ আরো বাড়ান। মনে রাখবেন- স্বাস্থ্যসম্মতভাবে যত বেশি পরিমাণ পানি আপনি পান করবেন, কালো দাগ দূর করার সামর্থ আপনার তত বাড়বে।
৪. বিভিন্ন বই, ওয়েবসাইট বা ব্লগে দেখবেন দিনে অন্তত আট ঘন্টা ঘুমকে ত্বকের জন্য উপকারী হিসেবে বলা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে- আপনার যদি ডার্ক সার্কেলের জেনেটিক কারণ বা শারীরিক ভারসাম্যহীনতা থেকে থাকে, তবে শুধু ঘুমই আপনার সব সমস্যার সমাধান দেবে না, সাথে সাথে অন্যান্য ভাবেও প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
৫. ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে কাটাবেন না।( এটা কঠিন- নিঃসন্দেহে ! ) সেটা যদি সম্ভব না-ও হয়, অন্তত এটুকু নিশ্চিত করুন যে আপনার কর্ম-পরিবেশে পর্যাপ্ত আলো বিদ্যমান।
৬. এই সমস্যায় এলমন্ড তেল খুবই উপকারী। ঠান্ডা এলমন্ড তেল (রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর জন্য) আক্রান্ত স্থানে দশ মিনিটের জন্য ব্যবহার করুন। এরপর তুলো দিয়ে সে তেল পরিষ্কার করে নিন। ব্যাস !
৭. কোন রাসায়নিক বস্তু/কেমিকেল/ক্রিম আপনার চোখের নীচে ব্যবহার করছেন- সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, কারণ ত্বকের এই অংশটুকু অত্যন্ত সংবেদনশীল। মাসকারা, ইনফিউসন কিংবা ক্রিম বেশি সময় ধরে যেনো চোখের নীচে থেকে না যায়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। নিরাপদ জেনে বিভিন্ন পেস্ট ব্যবহার করুন এবং ব্যবহারের পর সেটা তুলে নিন।



Comments
Post a Comment