শুষ্ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত চুলের যত্নে কিছু অসাধারণ ঘরোয়া পদ্ধতি
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুল সংক্রান্ত সমস্যায় আমরা দোকান থেকে কিনে আনা প্রোডাক্ট
ব্যবহার করি। কিন্তু আপনারা কি জানেন, এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির অস্তিত্ব আছে, যেগুলোর ব্যবহারে আপনি আরো অনেক গুণ বেশি উপকার পেতে পারেন !?
এসব ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার না করার পেছনে আমাদের কিছু কারণ আছে। অনেক সময় আমরা
মনে করি- এসব পদ্ধতির খরচ বুঝি বেশি অথবা এগুলো করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু
আসলেই কি ব্যাপারটা তাই? চলুন দেখে নেই !
শুষ্ক চুল থেকে পরিত্রাণের কিছু ঘরোয়া উপায়
চুলের যে কোন সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন ঘরোয়া পদ্ধতি বিদ্যমান, সুতরাং শুষ্ক চুল থেকে পরিত্রাণের
বিষয়টিও ব্যতিক্রম কিছু নয়। এক্ষেত্রে হেয়ার মাস্ক একটা ভালো সমাধান হতে পারে; কেননা এটি চুলের আর্দ্রতা বজায়
রাখতে এবং বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি হেয়ার মাস্ক
শুষ্ক চুলের একটা অন্যতম কারণ হলো আপনার খাদ্যাভ্যাস। জ্বি ঠিকই শুনেছেন ! চুল, ত্বক এবং নখ সুন্দর রাখতে ফ্যাটি
এসিড উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এ ফ্যাটি এসিডের ভালো উৎস হতে পারে স্যালমন বা
টুনা মাছ। তাছাড়া ফ্ল্যাক্সিড অয়েলও এক্ষেত্রে ভালো কার্যকর। আপনি আপনার
প্রতিদিনের খাবারে দুই টেবিলচামচ ফ্ল্যাক্সিড ওয়েল যোগ করে খেলে ভালো উপকার পেতে
পারেন। অনেকে এটার স্বাদ খুব একটা পছন্দ না করলেও, একবার খাওয়ার পর সে ধারণা পাল্টেও যেতে পারে তার বাদাম/ মাখন ফ্লেভারের কারণে।
শ্যাম্পু
চুলের সুরক্ষায় আপনি বিভিন্ন রকম হেয়ার মাস্কই তৈরি করতে পারেন। এর মধ্যে একটা
হলো অলিভ অয়েল হেয়ার মাস্ক। এটা তৈরি করতে দরকার দুইটা ডিম আর পাঁচ টেবিল চামচ
অলিভ অয়েল। এগুলো ভালোমত মিশিয়ে আপনার চুলে মাখুন এবং ১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর
ভালোমত ধুয়ে ফেলুন।
ড্যামেজড চুল নিরাময়
ড্যামেজড চুলের ভালো একটা ঘরোয়া নিরাময় পেতে পাকা কলা পিষে তাতে কয়েক ফোটা
এলমন্ড অয়েল যোগ করে নিন। এরপর এ মিশ্রণটি চুলে মাখুন। সোডা ওয়াটার, শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার দিয়ে
পরবর্তীতে তা ধুয়ে ফেলুন। এটা চুলের সুরক্ষায় ভালো কাজে দেয়।
আপনার চুল যদি অতিরিক্ত শুষ্ক হয় এবং ফলশ্রুতিতে চুলপড়া সমস্যার মুখোমুখি হন, তাহলে ইন্ডিয়ান গুজবেরি এক্ষেত্রে
আপনার জন্য উপকারী হতে পারে। প্রতিদিন এর ব্যবহার আপনার চুল পড়ে রোধে কার্যকর
ভূমিকা রাখবে।
চুলফাটা (split hair) সমস্যায় প্রতি সপ্তাহে দুইবার নারিকেল তেল আর লেবুর জুসের মিশ্রণ মাথায় মাখলে
ভালো উপকার পাওয়া যায়।
এসব ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করাটা আসলে খুবই সহজ এবং কার্যকরী। সাথে সাথে
পদ্ধতিগুলো পুরোপুরি প্রাকৃতিক হওয়ায় তা চুলের জন্যও ভালো। নিশ্চিতভাবেই আপনি যত
বেশি কৃত্রিম রাসায়নিক এড়িয়ে চলবেন, ততই মঙ্গল- তাই নয় কি !
আপনার শুষ্ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত চুলের যত্নে ব্যবহৃত এসব বিভিন্ন ঘরোয়া পদ্ধতি
সম্পর্কিত তথ্য নানা বই-পুস্তক কিংবা অনলাইনের বিভিন্ন সাইট থেকেও পেতে পারেন।




Comments
Post a Comment