একজিমা সমস্যার কার্যকর সমাধাণ !

শুষ্ক ত্বক লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, সাথে অসহ্য চুলকানি? তাহলে সম্ভবত আপনার একজিমার সমস্যা দেখা দিয়েছে। একজিমা একটি অস্বস্তিকর চর্মরোগ। বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ এ একজিমা সমস্যায় আক্রান্ত। সত্যি বলতে আমি নিজেও এর একজন ভুক্তভোগী ছিলাম। তাই আমি জানি- এ সমস্যা কতটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। মুখ আর বাহুর চামড়া লাল হয়ে ফুলে গিয়ে আমার এমন অবস্থা পর্যন্ত হয়েছিলো যে আমার বন্ধুদেরও আমাকে চিনতে অসুবিধা হোত সে সময়!
খুব অস্থির আর হতাশ  হয়ে পড়েছিলাম আমি। প্রচুর ক্রিম আর লোশন ব্যবহারেও ভালো কোন ফল পাচ্ছিলাম না। শেষমেষ কয়েক বছর ধরে এ রোগে ভুগে তিনটা সমাধাণ পেলাম আমি একজিমা নিরাময়ের। সামধাণগুলি একেবারেই ঘরোয়া। খুব ভালো ফল পেয়েছিলাম তখন এগুলো ব্যবহার করে; মোটামুটি ১০ দিনেই ভালো হয়ে উঠি একজিমা থেকে। এ লেখায় সেগুলো সম্পর্কেই কিছু বলবো আপনাদের, যাতে আমার মত আর কাউকে একজিমা সমস্যায় এতোটা ভুগতে না হয়।



একজিমা নিরাময়ে ওষুধের দোকানগুলোতে বিভিন্ন দামী দামী ক্রিম বিক্রি হয়, কিন্তু এ লেখায় যে পদ্ধতিগুলোর কথা বলবো, সেগুলো একেবারেই ঘরোয়া। চলুন তবে দেরি না করে শুরু করি-

১. পানিঃ একজিমা হলে শরীরে শুষ্কতা পরিলক্ষিত হয়, তাই এ সময় ত্বক আর্দ্র রাখাটা জরুরি। পানি প্রাকৃতিকভাবেই আপনার ত্বকটাকে আর্দ্র রাখে। সুতরাং প্রতিদিন ২/৩ লিটার পানি পান করুন আর গোসল সেরে নিন। এটা আপনাকে ডি-হাইড্রেটেড হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।

২. তুলাঃ তুলার তৈরি পোশাক পড়ার অভ্যাস করুন। তুলা খুবই হালকা এবং নরম একটা বস্তু। এর তৈরি কাপড় সহজেই আপনার ত্বককে চুলকানি কিংবা জ্বলুনির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। তাছাড়া তা শরীরের জন্য খুব আরামদায়কও বটে। 


৩. ফল এবং সবজিঃ যত বেশি সম্ভব ফল এবং সবজি খান। এগুলোতে প্রচুর ভিটামিন এবং মিনারেল পাওয়া যায় যা আমাদের ত্বককে মসৃণ এবং সতেজ করতে সাহায্য করে। মোটকথা ত্বক সতেজ করতে যেসব পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন, ফল এবং সবজিতে তা প্রচুর পরিমাণে আছে।


আর চুলকানি কমানোর প্রাকৃতিক সমাধান আছে।
একজিমার হার্বাল বা প্রাকৃতিক সমাধানের সব থেকে বড় সুবিধাটাই হলো এর খরচ খুব কম। তবে যা-ই হোক, এসব ক্ষেত্রে আপনাকে নিচের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে-
১. ঘরোয়া সমাধাণগুলোর কাঁচামাল বাছাই এবং গ্রহণে সতর্ক হতে হবে
২. আপনার হাত এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পরিষ্কার রাখতে হবে
৩. ঘরোয়া সমাধাণগুলোর পাশাপাশি আপনি প্রথাগত ওষুধও চাইলে ব্যবহার করতে পারেন


চলুন তবে একজিমার কিছু কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতির সাথে পরিচিত হই তবে ! বলে রাখা ভালো- এ ধরণের হারবাল নিরাময়গুলো একেকজনের উপর একেক রকমভাবে কাজ করে। অর্থাৎ, যেটা আপনার ভাই/বোনের জন্য খুব ভালো কাজ করবে, সেটা আপনার ক্ষেত্রে অত ভালো কাজ নাও করতে পারে। তাই প্রথম অবস্থায় টেস্ট কেস হিসেবে ছোট পরিসরে ব্যবহার করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কিছু পরিমাণ সরিষার তেল নিয়ে তাতে নিম পাতা যোগ করুন। ১০ মিনিট ধরে মিশ্রণটি ফুটিয়ে নিন। এরপর নিমপাতাগুলো সরিয়ে তেলটা সংরক্ষণ করুন। এই তেলই আক্রান্ত জায়গায় ব্যবহার করুন। অন্যান্য আরো নানা অসুখের মত একজিমা চিকিৎসাতেও এ নিমপাতা খুব কার্যকর।



একজিমা চিকিৎসায় আরেকটি ঘরোয়া নিরাময় হতে পারে ওটমিলের ব্যবহার। আপনি সরাসরি আক্রান্ত জায়গায় ওটমিল প্রয়োগ করতে পারেন, অথবা গোসলের সময়ও তা ব্যবহার করতে পারেন। যদি শরীরের একটা বড় অংশ একজিমা আক্রান্ত হয়, তবে ওটমিল গোসলটা বেশি কার্যকর। ওটমিল ব্যবহারের সময় শুধু একটা জিনিসই খেয়াল রাখতে হবে, আর তা হলো- সেটা কখনোই আপনার ত্বকের ওপর ঘষবেন না। স্রেফ হালকাভাবে ওটমিল দিয়ে আক্রান্ত স্থানটুকুকে ঢেকে নিন, ব্যস !

একজিমার সময় ত্বক আর্দ্র রাখাটা খুব জরুরি। তাই সে উদ্দেশ্যে পানি, বরফ কিংবা গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। যদি বরফ ব্যবহার করেন, তবে অবশ্যই, অবশ্যই আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগের আগে সেটাকে তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে নেবেন; কখনোই  সরাসরি আপনার শুষ্ক ত্বকে বরফ প্রয়োগ করবেন না। এতে ফুসকুড়ি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সবশেষে একটা কথা মনে রাখাটা জরুরি, আর তা হলো- এসব হারবাল পদ্ধতি প্রয়োগে কখনো একজিমার পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয়। এগুলো বড়জোর আপনাকে চুলকানি আর ত্বকের শুষ্কতার হাত থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। তাই সেটা মাথায় রেখেই পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ এবং ব্যবহার করাটা উচিত। পুরোপুরি সমাধানের জন্য বেশি ফল মূল, শাকসবজি খান, বেশি করে পানি পান করেন। আর প্রয়োজনে ডাক্তার দেখান। 

Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান