স্ট্রেপ থ্রোট সমস্যা থেকে পরিত্রাণ
গলার টিস্যুতে গ্রুপ এ স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাক্টেরিয়ার ইনফেকশন হলে সেটাকে
স্ট্রেপ থ্রোট সমস্যা বলে। অবশ্য গলা ব্যথার সব সমস্যাই যে ব্যাক্টেরিয়ার
সংক্রমণের কারণে হয়- এমনটা নয়। যাই হোক- স্ট্রেপ থ্রোট ঘরোয়াভাবে মোকাবিলার কিছু
পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে গড়গড়া সহকারে কুলি করা, বিভিন্ন লতা-গুল্ম এবং সেক প্রদান (compresses)।
স্ট্রেপ থ্রোট এর বিভিন্ন উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হঠাত জ্বর, খাবার গিলতে সমস্যা, বমি বমি ভাব, র্যাশ, অরুচি, গলায় অস্বস্তি ইত্যাদি। কিছু কিছু
গলা ব্যাথা সমস্যা ভাইরাসের কারণে হয় যে ক্ষেত্রে কি না এন্টি-বায়োটিক প্রয়োজন হয়
না। তবে স্ট্রেপ থ্রোট নিরাময়ে সাধারণত এন্টি-বায়োটিক প্রয়োজন। তাই ওষুধের
পাশাপাশি এসব ঘরোয়া পদ্ধতির প্রয়োগে বেশ আরাম পাওয়া যায়।
ঘরোয়া পদ্ধতির কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসবে গরম তরল খাওয়ার কথা। মধু অথবা লেবুর
চা গলায় বেশ স্বস্তি দিতে পারে। লিকোরাইস অথবা হানিসাকল চা-ও এক্ষেত্রে কার্যকরী।
এছাড়াও একটা লেবুর এক চতুর্থাংশ অংশের রস, এক চা-চামচ এপল সাইডার ভিনেগার, এক চা-চামচ মধু এবং সামান্য শুকনো কায়্যিন মরিচগুড়ো মিশিয়ে চা তৈরি করে খেলেও
ভালো ফল পাবেন।
স্ট্রেপ থ্রোট সমস্যায় গার্গেল বা গড়্গড়া সহকারে কুলকুচি করলেও ভালো ফল পাবেন।
আধা চা-চামচ লবণ এক কাপ গরম পানিতে গুলে সেটা দিয়ে দিনে কয়েকবার গড়গড়া সহকারে কুলি
করুন। এছাড়াও আধা চা-চামচ শুকনো কায়্যিন মরিচগুড়ো গরম পানিতে মিশিয়ে কুলকুচা করা
হলে সেক্ষেত্রে মরিচের ক্যাপসাইসিন গলা ব্যাথা প্রশমনে সহায়ক।
গলা ব্যথায় ঠান্ডা বাষ্প গ্রহণ গলার জন্য আরামদায়ক। এসব গলার ঘা বেশিরভাগ
সময়েই শুষ্ক হয়ে থাকে, আর এই শুষ্কতা থেকেই ব্যথার উৎপত্তি হয়। ভ্যাপরাইজার এ শুষ্কতা দূর করে
আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
স্লিপারি এলম এর মত গাছ-গাছড়া স্ট্রেপ থ্রোট সমস্যা মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে।
এর মিউসিলেজ গলার জন্য ভালো। সেইজ থ্রোট স্প্রে ব্যবহারেও গলা ব্যথা কমে যেতে
পারে।
যদি গলা ব্যথা সমস্যা কয়েকদিন ধরেই স্থায়ী হয় তাহলে দেরী না করে থ্রোট কালচার
এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষণের জন্য ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। তাছাড়া নিঃশ্বাস
কিংবা গিলতে সমস্যা হলেও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করাটা জরুরি। মনে রাখতে হবে- থুথু
বা কফের সাথে রক্ত গেলে, র্যাশ কিংবা জ্বর দেখা দিলে অথবা
স্ট্রেপ থ্রোটে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির সাথে মেলামেশার পর নিজেরো গলা ব্যথা জাতীয়
সমস্যা দেখা দিলে অতি সত্বর ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। সেক্ষেত্রে ডাক্তার
ওষুধ হিসেবে এন্টি-বায়োটিক প্রদান করতে পারেন।
স্ট্রেপ থ্রোট ছোঁয়াচে। সুতরাং এর ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে ভালোমত হাত ধোয়া, আক্রান্ত ব্যক্তির টুথব্রাশ
অন্যদের থেকে আলাদা রাখা ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে কারণ ঘনিষ্ট
মেলামেশা,
লালা, সিক্রেশন ইত্যাদির মাধ্যমেই
সাধারণত স্ট্রেপ ছড়ায়।



Comments
Post a Comment