ফুড পয়জনিং এর কিছু ঘরোয়া সমাধান
ফুড পয়জনিং এর লক্ষণগুলো দেখা দেওয়ার আগে বেশিরভাগ সময়েই আমরা কল্পনা করতে
পারি না যে কি দুর্ভোগ আসলে অপেক্ষা করছে আমাদের সামনে ! হয়তো খাওয়ার সময় তখন
বুঝতে পারি নি যে খাবারটা ছিলো দুষিত,
কিন্তু ঘন্টাখানেক বা
কয়েক দিন পরই হয়তো শুরু হলো বমি, প্রচন্ড মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, দুর্বল লাগা কিংবা গ্যাস্ট্রিকের
মত সমস্যা। এমনকি কখনো কখনো সালমোনেলা,
ই কোলাই বা বটুলিজম এর
মত কিছু ক্ষতিকর ফুড পয়জনিং এজেন্ট (জীবাণু) শিশু , বৃদ্ধ কিংবা দুর্বল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের জন্য তৈরি করতে পারে গুরুতর
সংকট। তাই ফুড পয়জনিং এর লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা
করা উচিত।
ফুড পয়জনিং এর একটা ঘরোয়া নিরাময় হলো পূর্ণ বিশ্রাম। বিষয়টা হয় কি- যখন আপনি
সে দুষিত খাবার গ্রহণ করেন, তখন খাবারের সাথে সাথে প্রচুর
পরজীবী বা ব্যাক্টিরিয়া আপনার শরীরের ভেতর ঢুকে পড়ে। অন্যদিকে আপনার শরীরও সেসব
পরজীবী/ ব্যাক্টিরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে সচেষ্ট হয়; তৈরি করে এন্টিবডি। তাই ফুড পয়জনিং এ আক্রান্ত ব্যক্তির উচিত শারীরিক অন্যান্য
ক্রিয়াকর্ম যথাসম্ভব কমিয়ে আনা যেনো শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা এসব জীবাণুর
বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। সুতরাং, যখনই মনে হবে যে আপনি ফুড পয়জনিং এ আক্রান্ত, দেরি না করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন।
ফুড পয়জনিং এর ক্ষেত্রে অনেক সময়
অসুস্থতার চেয়ে, অসুস্থতার লক্ষণগুলো সামাল দেয়া
রোগীর জন্য কষ্টকর হয় দাঁড়ায়। তবে বমির সাথে সাথে শরীর থেকে যে তরল বেরিয়ে যায়, সেটা পূরণে এ সময় সচেষ্ট থাকতে হবে। শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট পুরোণে আক্রান্ত
ব্যক্তি স্পোর্টস ড্রিংকস বা ফর্টিফাইড বটলড পানি পান করতে পারেন। পপসাইকেল এবং
বিভিন্ন জুস বারও এক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। ফার্মেসিতে পাওয়া বমির ওষুধ ব্যবহার
করা গেলেও এন্টাসিডের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে; কারণ এন্টাসিড পাকস্থলির স্বাভাবিক সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে
প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।
ফুড পয়জনিং ভালো হওয়ার আগ পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যাক্তির বমি বমি ভাব দূর করার
একটা উপায় হতে পারে অন্য কিছুর বদলে স্রেফ তরল কিংবা স্যুপ পান করা। অনেকে আবার
নোনতা বিস্কুট বা তাজা রুটি খেয়েও ভালো বোধ করেন। এগুলোর সাথে সাথে রুমের
তাপমাত্রা স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে রাখা কিংবা চাপমুক্ত থাকাও বমি বমি ভাব দূর করার
ক্ষেত্রে কাজে দেয়।
ফুড পয়জনিং এর একটা বড় সমস্যা হলো ডায়রিয়া এবং পেট ফাঁপা। দুষিত খাদ্যের সাথে
সাথে শরীরে প্রবেশ করা জীবাণুর দল আপনার পরিপাকতন্ত্রের উপর যে আক্রমণটা চালায়, তাতে অনেকের এমনও মনে হতে পারে যে - আগের মত হজম ক্ষমতা আমার আবার হবে তো !
শুধু তাই না, আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার
আক্রমণে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে কখনো কখনো সেসব জীবাণু এসিডিক বা গ্যাসীয় বর্জ্য
ছড়িয়ে দিয়েও যেতে পারে।
এ ডায়রিয়া এবং পেট ফাঁপা সমস্যায় ফার্মেসির বিভিন্ন ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
শরীরের এসব জীবাণু আশপাশ থেকে অন্ত্রে অতিরিক্ত আর্দ্রতা টেনে নেওয়ার দরুণ সলিড
ওয়েস্ট তৈরি হতে সমস্যা হয়। ওষুধের মাধ্যমে তরলের সে ভারসাম্যটুকু
পুনঃপ্রতিষ্ঠা হওয়ার আগ পর্যন্ত পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করে যেতে হবে এবং
ডি-হাইড্রেটেড হওয়া চলবে না।
ফুড পয়জনিং সমস্যার সব থেকে ভালো ঘরোয়া নিরাময় হলো এর প্রতিরোধ। সর্বদা খাবার
ঢেকে ও পোকামাকড় কিংবা বিভিন্ন ক্যামিকেলের আগ্রাসন মুক্ত রাখতে হবে। কাঁচা এবং
রান্না করা খাবারের জন্য কখনো একই কাটিং বোর্ড ব্যবহার করা যাবে না। খাবার গ্রহণ
করা না হলে সেটাকে যথাযথভাবে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে; এবং নষ্ট হওয়া খাবার যথাস্থানে ফেলে দিতে হবে। এছাড়াও নিশ্চিত করুন যে - মাংস পুরোপুরি রান্না
হয়েছে, কাঁচা নেই। মনে রাখতে হবে- ফুড
পয়জনিং শুধু যে দুষিত খাবার থেকেই হয়,
এমনটা নয়, বরং আমাদের অসচেতনতাও এর জন্য সমানভাবে দায়ী হতে পারে।




Comments
Post a Comment