লিভার পরিষ্কার করার সেরা উপায়
লিভার শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বছরে অন্তত দু'বার এ লিভারটাকে পরিষ্কার করা উচিত। প্রাকৃতিকভাবে সেটা করারও বিভিন্ন
উপায় রয়েছে। নানা ঘরোয়া লিভার পরিষ্কারক পদ্ধতি আপনার লিভারটাকে ডি-টক্সিফাই
(বিষমুক্ত) করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অসুস্থ লিভার শনাক্ত করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে আপনার ওজনের দিকে লক্ষ্য
রাখা। যদি দেখা যায় যে স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট অনুসরণ এবং পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম/
ব্যায়াম করার পরও আপনার ওজন কমছে না, বরং বাড়ছে, তবে একটা ভালো সম্ভাবনা যে- আপনার লিভারটা আসলে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায়
আছে। একটি অসুস্থ লিভার শরীরে আরো নানা ধরণের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি আপনার রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দিতে পারে।
লিভার পরিষ্কারের একটি প্রাকৃতিক উপায়ঃ
লিভার পরিষ্কারের আরো একটি প্রাকৃতিক উপায় হলো কফি এনেমা। শত বছর ধরে
দূরপ্রাচ্যে ব্যবহৃত এ পদ্ধতির ব্যাপারে মানুষ ইদানীং আরো বেশি বেশি আগ্রহী হয়ে
উঠছে।
কফি এনেমা বানানোর সিস্টেম
সসপ্যান/ নন এলুমিনিয়াম পাতিলে চার কাপ পানি নিতে হবে। ৩ টেবিল চামচ
কফি গুড়ো নিতে হবে। বাজারে যেসব ইন্সট্যান্ট কফি পাওয়া যায়, সেগুলা না। সাধারণ কফি পাউডার/গুড়ো সেগুলা। এরপর ভালভাবে মেশাতে হবে।
৩-৫ মিনিট পানি ফুটাতে হবে।
এরপর অল্প আচে ১৫-২০ মিনিট সসপ্যান ঢেকে রেখে জ্বাল দিতে হবে। সব শেষে, এখন আস্তে আস্তে কফি নরমালে আনবেন। যদি পানি বেশি শকিয়ে যায়, পরিষ্কার ঠান্ডা পানি মিশিয়ে চার বানান। ব্যাস হয়ে গেলো কফি এনেমা।
এ পদ্ধতিতে খুব তাড়াতাড়ি কফি গ্রহণ করা হয়। এনেমা করা হলে লিভার
প্রচুর পরিমাণে বাইল তৈরি করে যেটা কি না পরবর্তীতে বিষাক্ত নানা উপাদান সহ শরীরের
বাইরে বেরিয়ে আসে।
মনে রাখবেন- যতক্ষণ না আপনি সেটাকে শরীরের বাইরে বের করে দিচ্ছেন, সে বাইল কিন্তু নানা বিষাক্ত উপাদানসহ আপনার লিভারেই রয়ে যাবে।
আরো কিছু প্রাকৃতিক উপায়
লিভারটাকে পরিষ্কার করবেন?
বিভিন্ন হারবাল উপাদান ব্যবহার করে লিভার পরিষ্কার করা সম্ভব, যেমন-
মিল্ক থিস্টলঃ এটা ভারী ধাতু, এলকোহল দূষণ, বিভিন্ন বিষাক্ত বস্তু বা ওষুধের অবশেষ দূর করতে ভূমিকা রাখে।
ড্যান্ডেলিয়ন এবং বার্ডকঃ লিভারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য
প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলের যোগান নিশ্চিত করে।
ইপসম লবণঃ জুসে তরল অবস্থায় এ লবণ যোগ করা হলে এটা গল পাথর এবং বিভিন্ন
বিষাক্ত উপাদান দূর করতে ভূমিকা রাখে।
এ সবগুলোই লিভার পরিষ্কারের প্রাকৃতিক উপাদান। এগুলো বাউল
ম্যুভমেন্টের মাধ্যমে শরীর থেকে নানা বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে।
উল্লেখ্য- আপনি যদি ইপসম লবণ গ্রহণের চিন্তা করেন, তবে সেক্ষেত্রে অন্য
ওষুধ গ্রহণ বন্ধ রাখতে হবে।
সবশেষে.....
বুঝতেই পারছেন লিভার পরিষ্কার করার অনেক প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায় রয়েছে।
বিভিন্ন খাবারের সাথে (যেমন নানা ধরণের প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম এডেটিভযুক্ত
খাবার) , কিংবা নানা ধরণের পানীয় (ক্যাফেইন এবং
এলকোহল) , এমনকি আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে সাথেও শরীরে
ঢুকে যাওয়া বিষাক্ত নানা উপাদান লিভারের ক্ষতির জন্য দায়ী। যেমনটা আগেই বলা হলো-
আপনার সার্বিক সুস্বাস্থ্য এবং একটি সুদৃঢ় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অন্তত প্রতি
ছয় মাসে একবার লিভার পরিষ্কার করাটা জরুরি।
লিভার পরিষ্কার করে এমন খাবারের লিস্টঃ
লেবু
বাধাকপি
ব্রকলি
পালংশাক
হলুদ
রসুন
ফুলকপি
গাজর
আপেল
মাল্টা
শালগম
করলা
গ্রীন টি
আজই পদক্ষেপ গ্রহণ করুন ।




Comments
Post a Comment