শরীরের ভিতর মাংসে টান পড়েছে? সমাধান এখানেই




বাসা পাল্টাতে যেয়ে চেয়ার টেবিল টানাটানি করে লেগেছে মন্টুর। প্রথম প্রথম কিছু হয় নি, হঠাৎ করে শরীরের ভিতর মাংসে প্রচণ্ড একটা টান লাগলো। এরপর ত বেচারা আর নড়তে পারছে না। সবারই জীবনে কখনো না কখনো এমন মাসল ক্র্যাম্প এর অনুভূতি হয়েছে। হয়তো আপনি ভারী কিছু একটা তুলতে নীচু হয়েছেন, অমনি পিঠে পড়লো টান, অথবা উঁচু শেলফে রাখা কোন বোতল পাড়তে গিয়ে হাতে টান খেলেন। যেটাই হোক না কেন- এসব ক্ষেত্রে পেশি সংকোচনের ফলে আমাদেরকে মুখোমুখি হতে হয়ে তীব্র ব্যথার; নড়াচড়া হয়ে পড়ে কঠিন।

মূলত পা, বাহু আর পিঠেই মাসল ক্র্যাম্প এর সমস্যা বেশি হয়। পেশির অতিরিক্ত ব্যবহার বা স্ট্রেইন, আঘাত কিংবা ডি-হাইড্রেশন, অথবা দীর্ঘক্ষণ নড়াচড়া না করার ফলে (যেমন হয়তো দীর্ঘক্ষণ আপনি অলস বসে ছিলেন) মাসল ক্র্যাম্প হতে পারে। এ সমস্যায় হলে নীচের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করে দেখতে পারেন-

১. হালকা ম্যাসেজঃ পেশির শক্ত হয়ে যাওয়া অংশে খুব ধীরে ধীরে হালকাভাবে মেসেজ করুন। এটা রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে পেশিকে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে সহায়তা করে।


২. গরম পানিতে গোসলঃ পানি গরম করে সেটা দিয়ে একটা ফ্রেশ গোসল দিন। আক্রান্ত স্থানে গরম পানি বেশি সময় ধরে প্রয়োগ করুন। এটা আপনার পেশিকে রিলাক্স করতে সহায়তা করবে।

৩. স্ট্রেচিংঃ পায়ের গোছায় টান লাগলে আপনার পায়ের আঙ্গুলগুলোকে উর্ধ্বমুখী করে মাথার দিকে নিয়ে আসুন। ৩০ সেকেন্ড এ অবস্থায় থাকুন। উরুর পেছনে টান লাগার ক্ষেত্রেও এ স্ট্রেচিংটা উপকারী। সামনের উরুতে টান লাগলে সে দিকের পায়ের পাতা ধরে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে আসুন। এভাবে ৩০ সেকেন্ড থাকুন। তাছাড়া ভবিষ্যতে মাসল ক্র্যাম্প এড়াতে একটা ভালো স্ট্রেচিং পরিকল্পনা তৈরি করে সেটাকে মেনে চলতে পারেন।

৪. বরফ অথবা গরম সেকঃ আক্রান্ত জায়গার উপর প্রায় দশ মিনিট সময় ধরে বরফ ঘষুন। বিকল্প হিসেবে গরম সেকও ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে রক্ত চলাচল আপনার পেশিকে রিলাক্স করে তুলবে।

৫. স্বাস্থ্যসম্মত খাবারঃ আপনার যদি প্রায়ই মাসল ক্র্যাম্প হয়, তার অর্থ হলো আপনার শরীরে ক্যালসিয়াম কিংবা পটাশিয়ামের মত মিনারেলের অভাব আছে। সেক্ষেত্রে দুধ বা দইয়ের মত খাবার- যাতে ক্যালসিয়াম উপাদান পর্যাপ্ত, সেগুলো আপনার ডায়েট পরিকল্পনায় রাখুন। একইভাবে পটাশিয়ামের জন্য কলা বা আলু খেতে পারেন। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েট পরিকল্পনার জন্য আপনার ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের সাথে কথা বলুন।


৬. হাইড্রেশনঃ ডি-হাইড্রেশনের কারণে মাসল ক্র্যাম্প বেশি হয়। সুতরাং সারাদিনে প্রচুর পানি পান করে দেহে তরলের ঘাটতি পূরণ করুন।

৭. লোকজ চিকিৎসাঃ ক্যামোমিল চায়ে গ্লিসিন নামে এক ধরণের এমিনো এসিড থাকে। এটা আপনার পেশি রিলাক্স করতে সহায়তা করে। দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন পাঁচ কাপ করে খেলে উপকার পাবেন।  এছাড়া দৈনিক দুই চা-চামচ মধু ক্রমাগত রাতে মাসল ক্র্যাম্পে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে আপনাকে নিস্তার দিতে পারে।

সরিষা এবং ভিনেগার মাখানো শসার, ইংরেজিতে বলে পিকল (Pickle) জুসে এসিটিক এসিড থাকে, যেটা কি না পায়ে মাসল ক্র্যাম্পের সমস্যায় উপকারী। এক চামচ (১৫ মি.লি.) সরিষা বা কয়েক গ্রাম পিকল জুস এক্ষেত্রে সেবন করতে পারেন। এপল সিডার ভিনেগারে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে। সব সুপার শপেই কিনতে পাওয়া যায়। এক গ্লাস গরম পানিতে এক চা-চামচ (৫ মি.লি.) মধু এবং দুই চা-চামচ (১০ মি.লি.) ভিনেগার মিশিয়ে সে মিশ্রণটুকু খেয়ে নিন।   


এ ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো মাসল ক্র্যাম্প সমস্যায় বেশ স্বস্তি দেয়। তবে সবকিছুর পরও আপনার যদি ঘনঘন মাসল ক্র্যাম্প হতে থাকে, তবে অবহেলা না করে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।


Do you like this story?

Comments

Popular posts from this blog

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে জ্বরঠোসা নিরাময়

সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন পদ্ধতিতে ব্রণ সমস্যা মোকাবেলার উপায়

ঠান্ডা আর গলার ব্যাথা সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ আয়ুর্বেদিক সমাধান