দ্রুত ব্রণ দূর করার কার্যকর সমাধান
ছোট বোন তিন্নি আর বড় বোন
ফারিয়া, এমনকি মেজো ভাই মাসুম – ঘরে ব্রণ নিয়ে টেনশন সবারই। আর রাস্তায় বের হলেই
শহরের ধূলা বালি, গাড়ির ধোয়া ময়লা আর প্রচণ্ড রোদ, ব্রণ ত হবেই। ব্রণ সারা বিশ্ব
জুড়েই কিশোর-কিশোরীদের মাঝে খুবই পরিচিত এক সমস্যার নাম। ত্বকের ভিতর সিবাম নামের
এক তেল জাতীয় পদার্থের অতিরিক্ত ক্ষরণে এ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এমনিতে পরিমিত
পরিমাণ সিবাম তেল ত্বক রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এর অতিরিক্ত
ক্ষরণ ত্বকে ময়লা কিংবা ব্যাক্টিরিয়া জমার জন্য দায়ী। সে ব্যাক্টিরিয়া মোকাবেলায়
ত্বক যে পদক্ষেপ নেয়,
তাতেই তৈরি হয় ব্রণ বা পিম্পল।
তিন্নির ত্বক শুষ্ক আর ওর
বোন ফারিয়ার ত্বক তৈলাক্ত। শুষ্ক ত্বকে ব্রণ কম হয়, কিন্তু অল্পতেই দাগ রয়ে যায়।
তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি হলেও দাগ উঠে যায় সহজে। দুই বোন এখন সারাদিন দ্রুত এর
কার্যকর সমাধাণ খুঁজছে। কেননা সতর্কতা অবলম্বন করা না হলে এটি এমনকি চিরতরে মুখের
সৌন্দর্য নষ্ট করে দিতে পারে। তবে ইদানীং অনেকেই ব্রণ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের
বদলে প্রাকৃতিক নিরাময়ের উপায় খুজছেন। এর একটা কারণ - ওষুধ ব্যবহারে যেসব
পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা আছে, প্রাকৃতিক নিরাময়ের
ক্ষেত্রে তা নেই। এছাড়া ওষুধের বিভিন্ন কেমিক্যাল দীর্ঘমেয়াদে কখনো কখনো ত্বকের
ক্ষতিরও কারণ হতে পারে।
তবে ব্রণ নিরাময়ের
প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়ার আগে এটা বলা রাখা জরুরি যে- আপনি যদি একটি
স্বাস্থ্যকর ডায়েট অনুসরণ করেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকেন, তাহলে তা ব্রণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।
আসলে যে কোন সমস্যার ক্ষেত্রেই তো 'প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ
উত্তম', তাই নয় কি !
ব্রণ নিরাময়ের কিছু ঘরোয়া
প্রাকৃতিক পদ্ধতিঃ
১. ক্যাস্টর তেল ব্যবহারঃ
শুধু ব্রণ নয়, আরো অনেক ধরণের শারীরিক অসুস্থতার ক্ষেত্রেই ক্যাস্টর তেল ভালো
উপকারী। ব্রণ নিরাময়ে আঙ্গুলের ডগায় অল্প একটু তেল নিয়ে আক্রান্ত জায়গায় ব্যবহার
করুন। অবশ্যই এর আগে ত্বক ভালোমত ধুয়ে নেবেন। রাতে ঘুমানোর আগে আগে এ তেল ব্যবহার
করা হলে, সেটা সব থেকে ভালো ফল দেবে। সকালে উঠে আবার ত্বক ধুয়ে
ফেলুন।
২. রসুন পিষে ব্যবহারঃ
এন্টি-ব্যাক্টিরিয়াল গুণের কারণে ব্রণ সমস্যায় রসুন ব্যবহার করা যেতে পারে। রসুনের
কোয়া (clove)ভালোমত পিষে সেটাকে আক্রান্ত স্থানে হালকাভাবে মেসেজ করুন।
১০-১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে শুকনো তোয়ালে দিয়ে ত্বকটা মুছে নিন। এ
পদ্ধতি ব্যবহারের একমাত্র অস্বস্তিকর দিকটা হলো রসুনের গন্ধটা খুব তীব্র।
৩. টুথপেস্ট ব্যবহারঃ ফারিয়া
নেট ঘেটে এ পদ্ধতি পেয়েছে। এ পদ্ধতি কেন এবং কিভাবে কাজ করে, সেটা আজো এক রহস্য। তবে ইন্টারনেটের বিভিন্ন ফোরামে বহু
মানুষ এর কার্যকারিতা সম্পর্কে জানিয়েছেন। রাতে ঘুমানোর আগে আক্রান্ত স্থানে
টুথপেস্ট ব্যবহার করে সকালে উঠে ধুয়ে ফেললে খুব দ্রুত উপকার পাওয়া যায় বলে অভিমত
তাদের। টুথপেস্টে থাকে ফ্লোরাইড, এটা দ্রত পানি শুষে নিতে পারে। ব্রণ সাদা হলে
গেলে, উপরে টুথপেস্ট অনেকক্ষণ লাগিয়ে রাখলে ভিতর থেকে পানি বের করে নেয় সেটা। ফলে,
সহজে ব্রণ দূর হয়ে যায়।
আগে আয়নায় তাকালেই দুই বোন দেখতে পেত যে তাকের সুন্দর চেহারা ব্রণের আক্রমণে নষ্ট
হয়ে যাচ্ছে। আর এখন তাদের চিন্তা শেষ। দুই সপ্তাহের মাঝে ব্রণ সমস্যা দূর কর হয়ে
গেছে।
এটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও
একেবারে শতভাগ সত্য! এ প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি আপনার ব্রণ সমস্যার একেবারে উৎসে
গিয়ে আঘাত করে, ফলে সহজেই আপনি ব্রণমুক্ত হতে পারেন। তাই আপনি যদি সত্যিই
একটা উজ্জ্বল এবং সুন্দর ত্বক চান, তবে অবশ্যই প্রাকৃতিক
পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত।




Comments
Post a Comment